চবি শিক্ষার্থীর ল্যাপটপ চুরি থেকে উদ্ধার হবার গল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪-৯-২০২১

This image is not found

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর চুরি হওয়া ল্যাপটপ ও মোবাইল  নিজেদের প্রচেষ্টা ও প্রশাসনের সহযোগিতায় নাটকীয়ভাবে উদ্ধার করা হয়েছে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঐ শিক্ষার্থী। চুরি হওয়া ল্যাপটপ ও মোবাইল নাটকীয়ভাবে উদ্ধার হওয়ার গল্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেন ঐ শিক্ষার্থী। পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো -

আমি সুলতান আহমেদ (ম্যানেজমেন্ট ১৬-১৭,চবি)। ঘটনার শুরু গত ১১-০৯-২০২১ তারিখ সকাল বেলা। আমি পুলিশ ফাঁড়ির পিছনে শেরে বাংলা কটেজে থাকি। গত ১১ তারিখ  সকালে আমার বন্ধু নিহাল  (ম্যানেজমেন্ট  ১৬-১৭) ফজর নামাজের জন্যে আমার মেসের পাশেই সালসাবিল নামক মসজিদে যায়। তখন আনুমানিক ভোর ৫: ৩০টা। যাওয়ার সময় আমি রুমে ঘুমানো অবস্থায় থাকার কারনে নিহাল দরজায় তালা না দিয়েই নামাজ পড়তে চলে যায়। এরই মধ্যে আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার ল্যাপটপ এবং নিহালের ফোন নেই অর্থাৎ চুরি হয়ে গেছে। আশেপাশে গিয়ে খোঁজার চেষ্টা করি কিন্তু খুঁজে পাইনা।তখন আমরা ধরেই নিয়েছিলাম চুরি হওয়া জিনিস আর ফিরে পাওয়া সম্ভব হবেনা হয়ত, খুবই হতাশ হয়ে পড়লাম।

কয়েকদিন পর নিহাল তার ফোনের সিম টা আবার অফিসে গিয়ে তুলে আনে এবং আরেকটা ফোনে চালু করে।কিন্তু ভাগ্যের কি লিখন!!ফোনে সিম চালু করার পর নিহালের নাম্বারে একটা মেসেজ আসে। নিহালের হারিয়ে যাওয়া ফোনে এন্টি থেফট নামক একটা অ্যাপস চালু ছিল ওই অ্যাপস থেকে মেসেজটি এসেছিল। অ্যাপস এর সিস্টেমটা হল এরকম, ফোনে যখন নতুন কোনো সিম চালু করা হবে, নতুন সিমের নাম্বার টা যে সিম টা দিয়ে অ্যান্টি-থেফট অ্যাপস টা চালু করা হয়েছিলো ওই নম্বরে মেসেজ চলে আসবে। ঠিক তাই হলো, নিহালের নাম্বারে মেসেজ চলে আসলো। 
এরপর ফোন নম্বরটি আমার ফোনে সেভ করার মাধ্যমে খোঁজার চেষ্টা করি এই নাম্বারে কোনো হোয়াটসঅ্যাপ একাউন্ট আছে কিনা। চেক করার পর একটা একাউন্ট দেখি এবং প্রোফাইলে তার ছবিও আছে।

নাম্বার টিতে গত ২১ তারিখ বিকাল ৫ টায় আমরা ফোন দেয়ার প্ল্যান করি। প্ল্যান টা ছিল এরকম, তাকে  আমাদের একজন ফোন দিয়ে বলবে,"আপনার নম্বরে রকমারি থেকে একটা পার্সেল এসেছে, আমি জিরো পয়েন্টে আছি আপনি এসে পার্সেল টা নিয়ে যান।" তো যথারীতি ফোন দেয়া হলো। ফোন দেয়ার পর ও বললো তার আসতে একটু সময় লাগবে কারণ সে পেশায় একজন দোকানদার, দোকান থেকে আসতে একটু সময় লাগবে। তখন আমি বললাম,"ভাই,আমি ডেলিভারিম্যান, বেশিক্ষণ অপেক্ষা করা সম্ভব না।" 

তখন সে বললো,"আচ্ছা তাহলে আপনি তো ১নং গেট এর ঐদিকেই ফিরবেন, যাওয়ার সময় আমাকে পার্সেল টা দিয়ে দিলে হবে। আমার দোকান জিরো পয়েন্ট থেকে ২মিনিট হাঁটলে একটা ৬ তালা বিল্ডিং পাবেন ওই বিল্ডিংটার ওখানেই।"

আমরা তিনজন ছিলাম,আর আমার বন্ধু আকিব, হেলাল, অনিন্দ্য কে জিরোপয়েন্ট এ পেলাম। তাদের কে আমি বিষয় টা অবহিত করার পর তারাও আমাদের সাথে গেল। আমরা সবাই নতুন পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন মাজারের কাছে গিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট এর ছেলেটাকে পেলাম। 

এরপর তাকে ফোনের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সে অকপটে স্বীকার করে সে ফোনটি কিনেছে। এরপর তাকে জিজ্ঞেস করলাম কার কাছ থেকে কিনেছে, তখন সে বললো সাকিব নামের একটা ছেলে থেকে সে ফোনটি কিনেছে। তখন আমরা তাকে বললাম সাকিব কে ফোন দিয়ে নিয়ে আসার জন্য। তখন সে সাকিব কে ফোন দিয়ে নিয়ে আসলো। এরপর আমরা সাকিব কে জিজ্ঞেস করলাম ফোনটির ব্যাপারে, উত্তরে সে বললো ফোন টা নাকি সে নজরুল নামের এক রাজমিস্ত্রির কাছ থেকে কিনেছে। তখন তাকে আমরা বললাম, তাহলে সে যেন সেই মিস্ত্রিকে খুঁজে দেয়। তখন সে বললো ঐ মিস্ত্রি সাউথ ক্যাম্পাস এ থাকে। কিন্তু তার সাথে কথোপকথনের সময় আমরা মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলাম এই সাকিব ছেলেটাই চুরি করেছে। তারপরও আমরা তাকে সাউথ ক্যাম্পাস থেকে রাজমিস্ত্রী কে খোঁজার জন্য রেল স্টেশন এ নিয়ে আসি।  রেল স্টেশনে নিয়ে আসার পর আকিব তাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করে সে আসলেই চুরি করেছে কিনা। তখন সে কোনো ভাবেই স্বীকার করছিল না দেখে আমরা তাকে পুলিশ বক্সে নিয়ে যাই। এর ভিতর বিষয় টা প্রক্টর স্যার কে অবহিত করলে প্রক্টর স্যারও পুলিশ বক্সে আসেন। 

এরপর অনেকক্ষন  পুলিশের  আইসি ইন্স(নি:)মো:কবির ভাই সাকিব কে জেরা করলে সে স্বীকার করে সে-ই চুরি করেছে। এর আগেই তো আমরা একটা ফোন উদ্ধার করি, বাকি ছিল ল্যাপটপ আর আরেকটা ফোন। এরপর তাকে ল্যাপটপ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে সে বললো, ল্যাপটপটা হাটহাজারিতে ৫৫০০ টাকায় বিক্রি করেছে। এরপর রাতেই  আইসি ইন্স(নি:)মো:কবির হোসেন ভাইয়ের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হাটহাজরী পৌর সিদ্দিক মার্কেট ইভা টেলিকম হতে ল্যাপটপ উদ্ধার আরো চোরাইমাল ক্রেতা ০২জন আমার কতৃর্ক গ্রেপ্তার এবং মামলা দায়ের করে।
পরিশেষে ধন্যবাদ দিতে চাই আমাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, প্রক্টর রবিউল হাসান স্যার, চবি পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা কবির ভাই, সার্কেল স্যার এবং চবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু ভাইকে। যাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া বিষয়টা এতো সহজে সমাধান হতনা। 

আর বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ দিতে চাই হেলাল এবং আকিবকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের পাশে থাকার জন্য। কারণ তোদের হেল্প না পেলে বিষয়টা অন্যরকম হতে পারতো। ভাই তোদের ডেডিকেশন এবং আন্তরিকতা দেখে আমি সত্যিই বিস্মিত।

এই বিভাগের আরও