'অল দ্যা প্রাইম মিনিস্টার ম্যান'; একটি বিশ্লেষণ ও কিছু কথা

নিজস্ব প্রতিবেদক

৪-২-২০২১

This image is not found

শেখ হাসিনাকে নিয়ে আল জাজিরার 'অল দ্যা প্রাইম মিনিস্টারস ম্যান' দেখলাম।এমন কিছু বিরাট ব্রেক থ্রু কোনও ডক্যুমেন্ট ফিল্ম নয়।খুব সাধারণ মানের ডক্যুমেন্ট ফিচার। সিনেমেটোগ্রাফি ভালো। বেশ সুন্দর করে গুছিয়ে পয়েন্টলেস একটা জিনিস জগাখিচুড়ী বানিয়ে সরকারকে বিব্রত করার ক্ষীণ চেষ্ঠা করা হয়েছে। 

বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই সেটা প্রমান করার জন্য কাতারের শেখেদেরই যে আসলে লাভ সেটা নতুন বিষয় না। দেশে ডানপন্থীদের উত্থান হলে দিন শেষে কাতারের মতো একনায়কতন্ত্র ইসলামী লেবাসধারী দেশগুলোরই এজেন্ডা বাস্তবায়িত হয়। কাতারের শেখেদের চ্যানেলে সৌদি আরবের রাজপরিবার, ইসলামাবাদের ক্ষমতার অভ্যন্তরে সেনাবাহিনীর স্বেচ্ছাচার নিয়ে কোনও গোপন স্টিং অপারেশন দেখার অপেক্ষায় রইলাম।আমি জানি হবে না। হলে সাংবাদিক ছবি শোভা পাবেন তার পরিবারের ড্রইংরুমের দেয়ালে। 

সংবাদমাধ্যম,সেনা,আমলাতন্ত্র,বিচারবিভাগ, রাজনৈতিক নেতৃত্বের হানিমুন সব দেশে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর মধ্যে ছিল।থাকবেই।থাকতে বাধ্য।এরমধ্যে একটা গোষ্ঠীর একটাই লক্ষ্য ক্ষমতায় থেকে টাকা কমানো। ভারত, পাকিস্তান বা বাংলাদেশের মতো ধর্মীয় পাঁকে নিমজ্জিত দেশগুলোতে সংবাদমাধ্যমের বিপুল জনপ্রিয়তার এটা একটা কারণ। জনগণ নিজেদের 'নেশন ষ্টেটের' প্রতিনিধি বলে মনে করে।চ্যানেলের 'ভার্সন'কে মেনে নেওয়া মানে দেশের হয়ে যুদ্ধ করা। সেটাকেই কাজে লাগিয়েছে আল জাজিরা। 

আল জাজিরার সাফল্য ঠিক এখানেই।আগামী দিনে যখন উপমহাদেশের ইতিহাস একশো বছর পরে লেখা হবে তখন আল জাজিরার এই বাতাসের উপর ভর করে উত্থান ,মিডিয়া মনোপলির সঙ্গে এক চেটিয়া পুঁজির উত্থানকে একত্রিত করে দেখা হবে।ধর্মীয় দাঙ্গা আর সংঘাতের পরিবেশে তৈরি হওয়া ব্রিটিশ উত্তর ভারতবর্ষে আল জাজিরার এইসব বস্তাপচা ডকুমেন্ট কোনও মিডিয়া হাউস চালায় না।ডিজিটাল কোর্ট চালায়।দ্রুত জাজমেন্ট পৌঁছে দেয়। তবে জনগন এখন আর বোকা নয়। 

আরব বিশ্বেও এই কাজটা করে আলজাজিরা।খুন মার্জিত ও পরিশীলিত ভঙ্গিমায়।যদি আল জাজিরার আরব সার্ভিস দেখেন, আলজাজিরা সমকামিতার কুফল বোঝাবে আপনাকে।প্রশ্ন তুলবে আদৌ হলকোস্ট ঘটেছে নাকি?ইংলিশ আর গ্লোবাল সার্ভিসে ঠিক উল্টো।এগুলো মার্কেটিং।পৃথিবীর বিভন্ন ভূখণ্ডে ছড়িয়ে থাকা মানুষের গোষ্ঠী, ভাবনা, দর্শন, স্বাভাবিক জীবন যাপনের সঙ্গে এঁরা ভাবনাকে কো অর্ডিনেট করে।আল জাজিরারা এদেশে যেমন ছড়িয়ে থাকা বিরাট জনগোষ্ঠীর কাছে শাসক দলের হয়ে সঙ্ঘ পরিবারের এজেন্ডা পুশ করে।সংবাদমাধ্যমের যা প্রভাব, মানুষের এমনিতেই ছাপার অক্ষরের প্রতি একটা স্বাভাবিক আনুগত্য আছে।টিভির পর্দাতাকে চূড়ান্ত স্বীকৃতি দেয়।যেগুলো ভেবেচিন্তে করা হয়।ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার বা তথ্যযুদ্ধের নতুন পর্যায়।

ঠিক এমন একটা সময়ে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ট বৃত্ত নিয়ে কাঁটাছেঁড়া চলছে যখন হাসিনা ভাসান চরে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন দিচ্ছে, মহামারী বিপর্যয় মোটামুটি সামলেছে।যখন অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক ষ্টেটের ভেতরে সৌদি-আমিরশাহী জোট বনাম তুরস্ক, পাক, মালয়েশিয়ার জোট যুদ্ধে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে জল মাপছে।চীন আর ভারতের থেকে সমদুরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছে। দেশের জনগনকে উপহার দিয়েছেন একটা মধ্যম আয়ের দেশ। পদ্মাসেতু আয সারা দেশের বিস্ময়। তখনই স্টিং অপারেশন লেলিয়ে ভাবমূর্তি নিয়ে নেত্রীর প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।শেখেদের দেশ এমনিতেই বাংলাদেশ কে ছহি মুমিন রাষ্ট্র বলে মনে করে না, পাকিস্তানীরাও মনে করতো না। বাংলাদেশ ইতিহাস চর্চায় বি এন পির সময় ঘটা সংখ্যালঘুর উপর অত্যাচার, খুঁচিয়ে সীমান্তের ওপারে পাঠানো আল জাজিরার প্রোগ্রামের মধ্যে পড়ে না।পড়তো।যদি বাংলা বা হিন্দি সার্ভিস থাকতো।এই অঞ্চলে ইসলামাবাদের ঐতিহাসিক দগদগে ক্ষতর প্রমান ঢাকার বুকে উড়তে থাকা সবুজ লাল নিশান, সিএনএন, বিবিসি, ফক্স নিউজে কোনও খবর ছাপা মানে এখনও আন্তর্জাতিক স্তরে বুদ্ধিজীবী, একাডেমিক মহল কে পাশে পাওয়া(এঁরা আবার শেখ থেকে পশ্চিমী পুঁজিপতিদের ছড়ানো দিরহ্যাম-ডলারের বিনিময়ে পেপার লেখেন)'।না হলে হঠাৎ এতো সফলতার সাথে দেশ পরিচালনার পর ও, জনসমর্থনে সবচেয়ে এগিয়ে থাকার পর ও শেখ হাসিনা কেন?দুনিয়াতে কেচ্ছা কাহিনী ঘটনা কম?আরব দুনিয়াতে গণতন্ত্রের হাল, মিশরে নারী স্বাধীনতা, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নিয়ে ঐতিহাসিক স্টিং অপারেশন হতে পারে।সে বিষয়ে শেখরা চুপ।এরদোগানের একেরপর এক সিদ্ধান্তে তুর্কী সেক্যুলার নীতি বিপন্ন হলে মেহেদী হাসানের চ্যানেল মুখে কুলুপ এঁটে রাখে।হঠাৎ কেনো বাংলাদেশ?

যদি ত্যাগের কথা আমরা চিন্তা করি রাজনীতিতে শেখ হাসিনার চেয়ে বেশি ত্যাগ কেউ করেন নি এই ব্যাপারে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরাও স্বীকার করবে। শেখ হাসিনার আশেপাশে কিছু মানুষ আছে যারা দীর্ঘদিন ধরে নানানভাবে নিজেদের বিশ্বস্ততার প্রমান দিয়েছে। আওয়ামীলীগ এর উপর ভিত্তি করে দাড়িয়ে আছে। দু:সময়ের কর্মিদের উপর। সুসময় চলছে এখন দলের। এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে তাই এটা অনুমিত যে সেসব লোকেরা লয়্যাল ছিলো, পার্টির প্রতি অনুগত ছিলো, আদর্শ বিসর্জন দেন নি তারা পুরস্কৃত হবে। 

এখন কথা হচ্ছে কোন পুরস্কার কার প্রাপ্য? 

-ব্যক্তিপর্যায়ে, ব্যক্তি শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে তার ইচ্ছামত যে কাউকে যে কোনকিছু দিয়ে প্রতিদান দিতে পারে। 
-দলীয় পর্যায়ে, আওয়ামী সভানেত্রী হিসেবেও তিনি দলীয়ভাবে তার প্রতি বিশ্বস্তদের পুরস্কার দিতে পারে। 
- রাষ্ট্রপর্যায়ে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি তার প্রতি বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় পদে নিয়োগ দিয়ে পুরস্কৃত করতে পারেন। 

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের বিশ্বস্ত লোকেদের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় পদে নিয়োগ দিতে পারেন। 


—— 

বঙ্গবন্ধু খুন হয়েছেন আর্মির কিছু সদস্যদের হাতে। বঙ্গবন্ধু কন্যা তাই আর্মি প্রধান হিসেবে বাংলাদেশ আর্মির আভ্যন্তরীন সিস্টেমের উপর ভরসার চেয়ে নিজের আস্থাভাজন কাউকে নিয়োগ দিলে সেটা পর্যন্ত বোধগম্য। এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু অবশ্যই এটা নিশ্চিত করত

এই বিভাগের আরও