নিখোজের ১১মাস পর প্রেমিকের বাড়ির সেফটি ট্যাংক থেকে কিশোরীর লাশ উদ্ধার

মোবাসসিরুল ইসলাম,মাদারীপুর প্রতিনিধি

১০-১-২০২১

This image is not found

মাদারীপুরের ডাসার থানার পূর্ব বোতলা গ্রামে নিখোঁজের এগারো মাস পর প্রেমিকের সেফটি ট্যাংকে মিলল কিশোরীর লাশ।গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।ভুক্তভোগী,স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা গেছে,মাদারীপুর জেলার ডাসার থানার পূর্ব বোতলা গ্রামের চাঁনমিয়া হাওলাদারের দশম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে মুর্শিদা আক্তারের সাথে একই গ্রামের মজিদ আকনের ছেলে সাহাবুদ্দিন আকনের প্রেমের সম্পর্ক হয়।

এই সম্পর্কের সূত্র ধরেই গত বছরের ফ্রেব্রুয়ারি মাসে মুর্শিদাকে বাড়ি থেকে চিকিৎসা করানোর কথা বলে নিয়ে যায়।এরপর নিখোঁজ থাকায় গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি মুর্শিদার পরিবার ডাসার থানায় একটি জিডি করে। এতে কোন প্রতিকার না হওয়ায় গত বছরের ৪ মার্চ সাহাবুদ্দিনসহ ৫ জনকে আসামী করে ডাসার থানায় একটি মামলা করেন মুর্শিদার মা মাহিনুর বেগম।

দীর্ঘদিন মামলার কোন অগ্রগতি না হওয়া মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তরের আবেদন করে বাদী পক্ষ।পরে মামলাটি মাদারীপুর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তভার গ্রহণ করে।এরপর গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর মামলার আসামী সাহাবুদ্দিন আকন আদালতে আত্মসমর্পন করে।পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই তারিকুল ইসলাম আসামী সাহাবুদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে।আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

শনিবার বিকালে সাহাবুদ্দিন হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয় গোয়েন্দা পুলিশের কাছে স্বীকার করে এবং লাশ গুম করার কথাও স্বীকার করে।সাহাবুদ্দিনের দেয়া তথ্য মোতাবেক রাত ৮টার দিকে সাহাবুদ্দিনের বাড়ির সেফটি ট্যাংক থেকে মুর্শিদার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতের মামা টিপু সুলতান বলেন,আমার ভাগ্নিকে গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে নিয়ে যায়।এরপর দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকায় আমরা থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ অসহযোগিতা করে।পরে এক পর্যায় মামলা হলেও পুলিশ আসামী গ্রেফতার করেনি।আসামী আদালতে আত্মসমর্পন করে।এরপর আসামীর দেয়া স্বীকারোক্তি মোতাবেক আসামীর বাড়ির সেফটি ট্যাংক থেকে মুর্শিদার লাশ উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ।

মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান মিয়া পূর্বপশ্চিমকে জানান,সাহাবুদ্দিনের দেয়া তথ্য মোতাবেক আসামীর বাড়ির সেফটি ট্যাংক থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।অন্যকেউ জড়িত আছে কিনা তা জানতে আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

এই বিভাগের আরও