চবির সংস্কৃত বিভাগ যেন এক পরীক্ষা বিমুখ সেশন জট তৈরির কারখানা

শিক্ষার্থী, সংস্কৃত বিভাগ

৭-১১-২০২০

This image is not found

একদিকে বিভাগের আগের সেশন জট, আবার এসে মরার উপর খাড়ার ঘাঁ যেন করোনা।  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে ২৩ মাসেও শেষ হয়নি এক বর্ষ। করোনার আগেই কোনো সমস্যা ছাড়াই নভেম্বরের পরীক্ষার তারিখ কয়েক দফায় পিছিয়ে এপ্রিলে গিয়েছিলো। শেষ রক্ষা আর হয়নি, করোনার জন্য আটকে গেছে সকল পরীক্ষা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৫-১৬ সেশনের একজন শিক্ষার্থী জানান " হিসেব অনুযায়ী আমাদের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিলো গতবছরের ডিসেম্বরে।  শিক্ষকদের অনাগ্রহের কারণে তা আর নেননি, ফলে করোনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তা আর নেয়া হয়নি। কিন্তু করোনার পরিস্থিতির আগেও অনেক সুযোগ ছিলো পরীক্ষা নেয়ার, আমরা শিক্ষকদের কাছে অনেক মিনতি করেছি পরীক্ষা নেওয়ার জন্য কিন্তু শিক্ষকরা আমাদের কথা শুনতেই চায়নি। ফলে আমরা ৪১তম বিসিএসের ফরম পূরণ থেকে শুরু করে, বর্তমানে অনেকগুলো বড় বড় চাকরীর সার্কুলার এ আবেদন করতে পারছিনা। এই দায় কে নিবে?

এদিকে পরীক্ষা না হওয়ায় অনলাইন ক্লাসেও শিক্ষকদের অনাগ্রহ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৮-১৯ সেশনের ছাত্র জানান, "নভেম্বর থেকেই পরীক্ষার রুটিন দেওয়ার জন্য আমরা বিভাগের সভাপতিকে অনুরোধ করতে থাকি কিন্তু তবু কোনো লাভ হয়নি। কোনো কারণ ছাড়াই কয়েক দফায় পিছিয়ে নভেম্বরের পরীক্ষা এপ্রিলে চলে যায়! যার ফলে আমরা না দিতে পারলাম পরীক্ষা না করতে পারছি অনলাইন ক্লাস! অথচ বিভাগের শিক্ষকরা চাইলেই আমরা সময়মতো পরীক্ষা শেষ করে এখন অনলাইন ক্লাস করতে পারতাম।"

২০১৭-১৮ সেশনের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, "ফার্স্ট ইয়ার ভালোভাবে কাটলেও সেকেন্ড ইয়ারে উঠার পরেই শুরু হয় নানা সমস্যার। তারপর নভেম্বরের জায়গায় আমাদের পরীক্ষার ডেট ফিক্সড হয় মার্চের ১০ তারিখে। তারপর একটা পরীক্ষা আমরা ভালোভাবে সম্পন্নও করি। কিন্তু তারপর আর সম্ভব হয়নি সেটা। কারণ করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তারপর আমরা বিভাগের সভাপতি ও পরীক্ষা কমিটিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা সম্পন্ন করার অনুরোধ করলেও তারা তাতে অনীহা প্রকাশ করে। আমরা সেটা মেনেও নিই, কিন্তু পরে অনলাইনে পরবর্তী বর্ষের ক্লাস নেওয়ার কথা বললেও তারা তাতে অস্বীকৃতি জানায়!
তাই আমরা এখন পর্যন্ত ঝুলেই আছি পরীক্ষাও সম্পন্ন করা হলোনা আর অনলাইনে ক্লাসও করতে পারছি না।"

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃত বিভাগের ৪৫ বছর হলেও নেই পর্যাপ্ত ক্লাসরুম। মাত্র দুটো ক্লাস রুমে ৬-৭ টা ব্যাচের পাঠদান চলে।  এতে করে এক ব্যাচের ক্লাসের জন্য অন্য ব্যাচের ক্লাস ব্যহত হয়। এই নিয়ে বিভাগের সভাপতির কাছে অভিযোগ করলেও তার কোনো সুরাহা হয়নি। শিক্ষকদের ক্লাস নেওয়া নিয়েও গড়িমসির অভিযোগ রয়েছে। ২০১৯-২০ সেশনের অনিয়মিত ক্লাস নিয়েও অভিযোগ আছে। কয়েক মাসে ক্লাস হয়েছে হাতে গোনা।  অনলাইন ক্লাসে ও নেই শিক্ষকদের আগ্রহ। অন্য সব বিভাগ করোনার পরিস্থিতি মাথায় রেখে যেভাবে তাদের পাঠদান নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তার বিন্দু মাত্র লেশ নেই সংস্কৃত বিভাগে। এদিকে ২০১৯-২০ সেশনের অনলাইন ক্লাসের জন্য শিক্ষককে কল দিলে শিক্ষককে পাওয়া যায় না, আর যদি ফোন ধরে তাহলে ব্যস্ততার নানা অযুহাত দেখানোর অভিযোগ আছে। উল্লেখ্য, কোনো শিক্ষক এমন ও বলেছে যে উনি অনলাইন সম্পর্কে বোঝেন না তাই ক্লাস নিতে পারবেন না। 
এখন সকল শিক্ষার্থীদের দাবী, পরিক্ষা আপাতত নেওয়া সম্ভব না হলেও, পরবর্তী ইয়ারের ক্লাস নিয়ে যেন শিক্ষকরা সিলেবাস গুছিয়ে নিতে সাহায্য করেন।

এই বিভাগের আরও