সাধারণ মুসলমানের দৃষ্টিতে ফ্রান্সের চলমান ঘটনার আদি থেকে এখন অব্ধি ||মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান || মতামত ||

এস এইচ/এস ই

২৬-১০-২০২০

This image is not found

"রাসূলের অপমানে যদি কাঁদে না তোর মন

           মুসলিম নয় মুনাফিক তুই, রাসূলের দুশমন।”

                                      

                                            -কাজী নজরুল ইসলাম

শুরু করা যাক এ পরিস্থিতির আদি থেকে। কেননা সবাই হয়ত সবটুকু সত্য জানেন না আবার এ পরিস্থিতির আদি সম্পর্কে অবলোকন করেননি। ঘটনার প্রেক্ষাপট জানা দরকার, প্রেক্ষাপট জেনে বয়কট করলে এর গ্রহণযোগ্যতায় কোনো খাত থাকবে না। 

দিনটা ছিল শনিবার।  পশ্চিমাদের উইকেন্ড যাকে বলা হয়। ১৮বছরের এক সদ্য বালেক হওয়া ছেলে যে চেচনিয়ের বংশোদূত ফ্রান্সের এক কলেজ ছাত্র, সে তার কলেজ হিস্ট্রির শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটিকে গলা কেটে হত্যা করে। সাধারণ ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে যে কেউ এ ঘটনাকে লোমহর্ষক ঘটনা বলে বিবৃতি দিবেন। 

১৮বছর বয়সি ছেলেটি একজন মুসলমান। শিক্ষক হত্যার পিছনে তার নিজস্ব কারণ(যদিও তার কর্মকাণ্ডটি এক্সট্রিমিজমের অন্তর্গত) ছিল। তা হলো,সেই শিক্ষক মুসলমানদের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী করিম হযরত মুহাম্মদ (স.) কে ব্যাঙ্গ করে, বিকৃতি করে ১লা অক্টোবর ক্লাস রুমের মধ্যে তার কার্টুন প্রদর্শন করে। 

সেই ক্ষোভ থেকেই নাকি সেই সদ্য বালেক হওয়া ১৮ বছর বয়সি ছেলেটি তার শিক্ষককে হত্যা করেন।ছেলেটিকে পুলিশ কিছুক্ষণ পরেই একাধিক গুলি করে। ছেলেটি উগ্রবাদী কাজ করেছে বলতে আমার মধ্যে যদি দ্বিধা থাকে তবে আমি একবিংশ শতাব্দীর একজন আধুনিক এবং সভ্য নাগরিক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে ব্যর্থ হব। 

কিন্তু আমি নিজেকে সেই আধুনিক এবং সভ্য সমাজের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করি না। আমার চোখের সামনে যদি কেউ আমার আল্লাহ এবং তার সর্বশ্রেষ্ঠ মানব মুহাম্মদ ( স.) কে নিয়ে কিছু বলা বা করা হয় তবে কতটা সংযত থাকতে পারব আল্লাহ মালুম। কিন্তু এই নয় যে তাকে হত্যা বা শারীরিকভাবে আক্রমণ করাই একমাত্র ফলাফল। 

হ্যাঁ হত্যা করা যেত। সেই শিক্ষকের আদর্শ এবং দৃষ্টিভঙ্গির হত্যা যদি করা যেত তাবে এমন অনেক স্যামুয়েল প্যাটির বোধশক্তিতে আসত না যে মুহাম্মদ (স.) কে কটুক্তি করা যায়। তাকে ব্যঙ্গ করা যায়। এর সাথে এমন অষ্টাদশী তরুন সন্তানও এমন উগ্রতায় পৌঁছাতো না। 

 

পরবর্তী ঘটনাই আসি

১লা অক্টোবর হিস্ট্রি শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটি  মহানবীর ব্যঙ্গাত্মক কাটুন প্রদর্শনের জের করে ১৭ অক্টোবর চেচনিয়া বংশদূত ১৮ বছর বয়সি এক তরুন ছাত্র তাকে গলা কেটে হত্যা করে। পরবর্তীতে ফ্রান্সের সরকার এবং জনগণ সেই শিক্ষকের সমবেদনায় ফরাসি রাজপথ দখল করে রাখেন এবং ওয়ান ইলেভেনের পর আবার পুনরায় ইসলামোফবিয়ার মূলমন্ত্র সজোরে প্রচার করতে থাকেন। 

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী এমুয়েল ম্যাক্রো এ আক্রমণকে "ইসলামি সন্ত্রাস " বলে অবহিত করে। এছাড়া তিনি বলেন, "এমন কার্টুন আকাঁ আমরা বন্ধ করব না " এবং তা পরবর্তীতে চলমান থাকবে। 

শিক্ষক হত্যা হয়েছে এইটা যেমন সত্য। ঠিক তেমনি ভাবে ১.৮ বিলিয়ন মুসলমান যারা কিনা পৃথিবীর জনসংখ্যা ২৪ শতাংশ। তাদের প্রাণের নবী, তাদের অস্তিত্বের ধারক বাহকের ব্যাঙ্গ কার্টুন আঁকা এবং প্রচার হচ্ছে বা হয়েছে সেটাও সত্য এবং পরম সত্য। 

১৭ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের পর এমুয়েল ম্যাক্রোর নানামুখী ইসলাম বিদ্বেষী কথাবার্তা সাথে যোগ হয় আরেক বিদ্বেষ পূর্ণ কাজ। ফ্রান্স সরকার ২২ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার সরকারি স্থাপনায় হযরত মুহাম্মদ (স.) কে অবমাননা করে কার্টুন দৃষ্টতার চরমরূপ প্রদর্শন করে এবং পরবর্তীতে স্যামুয়েল প্যাটির ছবিও প্রদর্শিত হয়।

এই কার্টুন শার্লি এব্দো যা কিনা ফ্রান্সের একটি পত্রিকা তাদের পক্ষ থেকে  প্রকাশিত হয়। রাসূলের ব্যাঙ্গ কার্টুনের  ইতিহাসের দিকে যদি লক্ষ্য করি তবে দেখা যায়, ২০০৫ সালে ডেনমার্কের এক পত্রিকা প্রথম এই দৃষ্টতা প্রদর্শন করে। পরবর্তীতে মুসলিম সমাজের একতাবদ্ধ হয়ে তাদের পণ্য বয়কট করলে ডেনমার্ক অর্থনৈতিক সংকটে পড়তেও বাধ্য হয়। ২০১৫ সালে সেই কার্টুন চিত্র রিপ্রিন্ট করে ফ্রান্স ভিত্তিক শার্লি এব্দো পত্রিকা। এ ঘটনার সহজ সমাধান হয়নি,এর ফলে শার্লি এব্দোর অফিসে হামলা হয় সাথে ১২ জন ফরাসি মৃত্যুবরণ করে। এ বছরের সেপ্টেম্বরে আবার শার্লো এব্দো তাদের ভুলের দৃষ্টতার অনুকরণ করে।

১.৮ বিলিয়ন মানুষের আবেগ এমনকি অস্তিত্ব বললে ভুল হবে না তাকে নিয়ে ব্যাঙ্গ করা, কার্টুন করা কখনোই লিবারেল কিংবা স্যাকুলারিজমের ফ্রিডম অব স্পিচ হতে পারে না। যারা একে ফ্রিডম অব প্রেস বলে লাফালাফি করছেন তারা সংবাদপত্রের এথিকসটা আবার একটু মন দিয়ে পড়ে আসবেন । পৃথিবীর জনসংখ্যার ২৪ শতাংশের ভালবাসা, অস্তিত্বশীলতা নিয়ে কটুক্তি করা কখনো ফ্রিডম অব প্রেস হতে পারে বলে মনে হয়না।

 "ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ধর্মহীনতার পরিচয়, বাকস্বাধীনতার আড়ালে সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত আনন।"

ফ্রিডম অব স্পিচ বা প্রেস মানে হীনতা নয়। আপনি আমার দীন আল ইসলাম মানেন না, এর মানে এই নয় আপনার অধিকার আছে কটুক্তু কিংবা খারাপ কিছু করার। আমি মানিনা অন্য ধর্ম। তাদের মতামতে আমার দ্বিমত আছে,তাদের ধর্মে আমার দ্বিমত আছে তা আমি আমার যুক্তি এবং গন্ডির মধ্য বলব। কিন্তু এর মানে এই নয় যে আমার নবীকে পারসোনালি কিংবা ইনজেনারেল আক্রমণ করব কিংবা বিকৃতি ঘটাবো।

যদি আমার এই চিন্তাতে আমি সাম্প্রদায়িক কিংবা ফান্ডামেন্ডালিস্ট হই তবে তাই ভালো। আমি এমন ধর্ম  নিরপেক্ষতা চাই না যার মাধ্যমে সমাজে আমি ধর্মহীনতার কিংবা বিশেষ কোন (ইসলাম) ধর্ম হীনতার মত প্রদর্শন করি।

ফ্রান্সের সরকার ইসলামফোবিয়াকে তাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় জনগণদের আগ্রাসী হতে বলেছে।এই ঘটনার জের ধরে কয়েকটা মসজিদ মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া আইফেল টাওয়ারের নিচে দুই নারী ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছে যার মধ্যে একজনের অবস্থা আশংকাজনক।হিংসা ছড়ছে এবং তাতে পৃষ্ঠপোষকতা করা হচ্ছে। 

ব্যাঙ্গ কার্টুন এখনো সেই সরকারি দালানে পুলিশি  পাহারায় প্রদর্শিত হচ্ছে।

কোন ঘটনাই কোন ঘটনার সাথে জাস্টিফাই করা যাবে না।কিন্তু ১.৮ বিলিয়ন মানুষের অস্তিত্ব কখনোই ফ্রিডম অব স্পিচের নামে প্রদর্শিত হতে পারে না,পৃথিবীতে ইসলামোফোবিয়া নতুন করে সৃষ্টির পায়তারা চলছে এর থেকে যথেষ্ট সচেতন এবং সংঘবদ্ধ থাকতে হবে। 

ইসলাম শব্দের অর্থ আমাদের জানানো হচ্ছে এবং শিখানো হচ্ছে শুধুমাত্র শান্তি। কিন্ত ইসলাম শব্দের প্রকৃত অর্থ আত্মত্যাগ।একজন মুসলমান হতে হলে আল্লাহর উপর শতভাগ আত্মত্যাগ বা সাবমিশন করতে হবে। বিশ্বাসী হতে হবে তার প্রতিটি আয়াতের উপর।কে কতটা ইসলাম পালন করলো এর থেকে বেশি জরুরি কে কতটা ইসলাম বিশ্বাস করলো ,কেননা বিশ্বাসই আলটিমেট ডেসটিনেশন ।

ইসলাম যেমন শান্তির বানি বহন করে তেমনি তার উপর আঘাত আসলে প্রতিরোধ করতে পিছপা হয়না তা আমাদের জানতে হবে ইতিহাস দিয়ে। বাংলাদেশও কিন্তু লাখও শহীদের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে । তেমনিভাবে পাক সেনাদেরও উচিত শিক্ষা দিছে যুদ্ধের মাধ্যমে। 

সো শান্তি শান্তি কইরা ঘরে চুড়ি পইরা বসে থাকার নাম ইসলাম নয়। কেউ যদি আপনার অস্তিত্ব এবং সার্বভৌমত্বে তবে তাকে যেভাবে সম্ভব আপন শক্তি অনুযায়ী প্রতিরোধ করতে হবে। যেমন সরকার কুটনৈতিক ভাবে, ব্যবসায়ীমহল বাণিজ্যিক ভাবে, সাধারণ জনগণ পণ্য বয়কট কিংবা সরকারকে চাপ(কূটনৈতিক সম্পর্ক বাতিল প্রসঙ্গে) দিয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করবে।

আবার কতিপয় সুশীল কেন বয়কট করবো, কি দরকার, এমনেই তো ব্যবহার করিনা তাদের জিনিস, এখনো আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ নই এগুলো বলে ব্যাপারটাকে শুধুশুধু এভয়েট কিংবা বাহুল্যপূর্ণ করছেন। কেন করবেন কি করবেন সেটা ফ্যাক্ট না কি উদ্দেশ , কোন ইনটেনসনে করছেন সেটাই মূখ্য। ফ্রান্স তার ঔদ্ধত্ব চুর্ণ হয়ে যাওয়া ক্রুসেড ভুলে গেছে। ওয়াল্লাহি মুসলিমরা কাপুরুষ না। সব কিছুর জবাব দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ। 

 

শেষকথা কোরআনের আয়াত দিয়ে,

اِنَّ الَّذِیۡنَ یُؤۡذُوۡنَ اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ لَعَنَہُمُ اللّٰہُ فِی الدُّنۡیَا وَالۡاٰخِرَۃِ وَاَعَدَّ لَہُمۡ عَذَابًا مُّہِیۡنًا ۔٥٧

 

"যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত করেছেন। আর তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন অপমানজনক শাস্তি।" (সূরা আহযাব : ৫৭)

 

#Boycott_French_Products

#Love_Prophet_Muhammad

#WeHateFrancegovernment

#boycot_france

#ban_french_product

 

#Boycott_French_Products

#Boycott_France

#We_Love_Mohammad_(S.A.)🖤

#We_Follow_Mohammad_(S.A)

#We_Are_Ummah_of_Prophet_Hazrat_Mohammad

এই বিভাগের আরও