ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল সংকট ||✍: মো: নাজমুল হুদা || ক্যারিয়ার ক্লাব অফ আর্টস ফ্যাকাল্টি ( ক্যাফ)||

এস এইচ/এস ই

১৭-১০-২০২০

This image is not found

 

মুসলিমরা মনে করে, তাদের জাতির পিতা ইব্রাহিমের পদচারণা রয়েছে এখানে। এমনকি রাসূল সা. মিরাজের রাত্রিতে এখানে নামাজ পড়েছে। আবার এই জায়গা মুসলিমদের প্রথম কেবলা ছিলো। তাই তারা জেরুজালেমকে নিজেদের জায়গা বলে দাবি করে।

 

অপরপদিকে ইহুদীরা বিশ্বাস করে, বাইবেলে বর্ণিত পিতৃপুরুষ আব্রাহাম এবং তার বংশধরদের জন্য যে পবিত্র ভূমির প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, আজকের আধুনিক ইসরায়েল সেখানেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই অবশ্য এই ভূমি নিয়ে সংঘাত চলছে। আসিরিয়ান, ব্যাবিলোনিয়ান, পার্সিয়ান, ম্যাসিডোনিয়ান এবং রোমানরা সেখানে অভিযান চালিয়েছে, সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে।

এসব যুদ্ধ-বিগ্রহের ফলে সেখানে ইহুদীদের সংখ্যা মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। সেখানে ইহুদীদের ব্যাপক হারে হত্যা করা হয়। অনেকে নির্বাসিত হয়। অনেক ইহুদীকে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেয়া হয়।

 

অস্টম শতকে যখন ইসলামের উত্থান ঘটলো, প্যালেস্টাইন জয় করলো আরবরা। এরপর  ইউরোপীয় ক্রুসেডাররা সেখানে অভিযান চালায়। ১১৮৭ সালে সুলতান সালাউদ্দিন আইয়ুবী জেরুজালেম দখল করে। ১৫১৬ সালে এই এলাকায় শুরু হয় ওসমানীয় খিলাফতের আধিপত্য। এরপর প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত এই অঞ্চলটি এক নাগাড়ে শাসন করেছে ওসমানীয়রা।    

 

ওসমানী খিলাফতের আমলে  মুসলিমদের প্রাধান্য বাড়তে থাকায় ইহুদিরা  ইউরোপের কয়েকটি দেশে পাড়ি জমাতে শুরু করে। কিন্তু  ইউরোপেও ইহুদিদের উপর জুলুম নির্যাতন চালানো হয়। স্পেনের খ্রিস্টান শাসক ইহুদি এবং  মুসলিমদের উপর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়,  যা "স্প্যানিশ ইনকুইজিশন" নামে পরিচিত। ইহুদিরা নিজেদেরকে বাঁচাতে  ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে।  

 

 

১৯ শতকে বেশিরভাগ ইহুদি রুশ রাজ্যে বসবাস করতো। ইহুদিরা সেখানেও নিজেদের দাবি আদায়ে অনেক চেষ্টা করে। পরবর্তীতে তারা "হোভেভেই জিওন" নামে আন্দোলন শুরু করে জেরুজালেম ফিরে পাবার জন্য।  ১৮৯৩ সালে থিওডোর হার্জেল "দ্য জুইশ স্টেট" নামক লেখনীতে বলেন, ইউরোপীয় ইহুদি বিদ্বেষের একমাত্র সমাধান আলাদা ইহুদি রাষ্ট্র গঠন। এরই প্রেক্ষিতে ১৮৯৭  সালে ইহুদিরা  জায়োনিস্ট সংঘ গড়ে তুলে, যার উদ্দেশ্য ছিল  জেরুজালেমে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।  জেরুজালেম তখন উসমানীয় খিলাফতের অধীনে ছিল।

ইহুদিরা জায়োনিস্ট আন্দোলনে অভিভূত হয়ে  প্রায় ৩৫ হাজার ইহুদি চলে আসে ফিলিস্তিনে।  তাদের প্রথম আগমনকে "প্রথম আলেয়া" বা "প্রথম ইহুদি পুনর্বাসন" বলা হয়।  ১৯১৪  সালে দ্বিতীয় আলেয়ায় প্রায় ৪০,০০০ ইহুদি  জেরুজালেমে আসে।

জায়োনিজম আন্দোলনকারীরা আমেরিকা-বৃটেনের সমর্থন পেতে নানা রকমের চেষ্টা করে। বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী লয়েড জর্জ  তখন সহানুভূতি দেখায়, এবং  বৃটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেলফোর ইহুদি কমিউনিটির নেতা রথসচাইল্ডকে চিঠি দেয়। সেখানে বলা হয়, ইহুদি রাষ্ট্রে ব্রিটিশ সরকারের সমর্থন রয়েছে।   সেই চিঠি "বেলফোর ডিক্লারেশন" নামে পরিচিত। 

ফ্রান্স এবং ব্রিটিশরা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সাম্রাজ্য বিস্তারের লক্ষ্যে  উসমানী খিলাফত ভেঙে টুকরো টুকরো রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা ভেবে ইহুদি রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন দেয়। এবং ইহুদীদেরকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। যার বিনিময়ে ইহুদি 'স্পাই'রা  উসমানীয় খিলাফতের বিভিন্ন রকম তথ্য পাচার করে ফ্রান্স এবং বৃটেনের কাছে। 

 

 

শুরু হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং উসমানী খিলাফতের পতন হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর লীগ অব নেশনস প্যালেস্টাইনকে তুলে দেয় ব্রিটিশদের হাতে। 

ইহুদি রাষ্ট্র গঠনের প্রতি ব্রিটিশ এবং লীগ অব নেশনসের সমর্থনে ৩য় আলেয়াতে আরো ৪০,০০০ ইহুদি আসে প্যালেস্টাইনে। 

এদিকে ১৯২৮ সালে JNC (Jewish National Council) গঠিত হয় ফিলিস্তিনে। এরই মাঝে ৪র্থ আলেয়াতে প্রায় ৮২,০০০ ইহুদি আসে প্যালেস্টাইনে।  ১৯২৯ সালে প্রথম বড় ইহুদী-মুসলিম দাঙ্গা হলো জেরুজালেমের ওয়েইলিং ওয়াল (বুরাক দেয়াল) নিয়ে।  ফলে ১৯৩১ সালে জায়োনিস্টরা ইর্গুন জাই লিউমি নামে এক মিলিশিয়া প্রতিষ্ঠা করে। এই ইহুদী সন্ত্রাসী সংগঠন পরবর্তীতে অনেক হত্যাযজ্ঞ চালায় মুসলিমদের উপর।

 

১৯৩৩ সালে নাৎসিদের সাথে চুক্তিতে আরো ৫০ হাজার ইহুদী ফিলিস্তিনে চলে আসে। ১৯৩৮ সালের মাঝে ৫ম আলিয়ায় প্রায় আড়াই লাখ ইহুদী এলো ফিলিস্তিনে। 

 

শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। এই বিশ্বযুদ্ধে যেভাবে ইহুদি নিধন হয়, তাতে ইহুদিদের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্টা করা জরুরি হয়ে পড়ে।  ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের অধীনে থাকা অঞ্চলটি তখন ফিলিস্তিনি আর ইহুদীদের মধ্যে ভাগ করার সিদ্ধান্ত হয়। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই ১৯৪৮ সালের ১৪ই মে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসরায়েল।

 

          ★কয়েক দশকে দফায় দফায় যুদ্ধ

 

⏩ ১৯৪৮ সালের ১৫ই মে, মিশর, জর্দান, সিরিয়া এবং ইরাক মিলে অভিযান চালায় ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের অধীনে থাকা অঞ্চলে। সেটাই ছিল প্রথম আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ। ইহুদীদের কাছে এটি স্বাধীনতার যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত।

জাতিসংঘ প্যালেস্টাইনে আরবদের জন্য একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় যে অঞ্চলটি বরাদ্দ করেছিল, এই যুদ্ধের পর তার অর্ধেকটাই চলে যায় ইসরায়েল বা ইহুদীদের দখলে।

ফিলিস্তিনের জাতীয় বিপর্যয়ের শুরু সেখান থেকে। এটিকেই তারা বলে 'নাকবা' বা বিপর্যয়। প্রায় সাড়ে সাত লাখ ফিলিস্তিনিকে পালিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে হয়। ইহুদী বাহিনী তাদেরকে বাড়ি-ঘর থেকে উচ্ছেদ করে।

 

⏩ ১৯৫৬ সালে যখন সুয়েজ খাল নিয়ে সংকট তৈরি হয়, তখন ইসরায়েল মিশরের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। কিন্তু সেই সংকটে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ব্রিটেন, ইসরায়েল আর ফ্রান্সকে পিছু হটতে হয়। ফলে যুদ্ধের মাঠ কোন কিছুর মীমাংসা সেই সংকটে হয়নি।

 

⏩ এরপর এলো ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ। ৫ই জুন হতে ১০ই জুন পর্যন্ত এই যুদ্ধে যা ঘটেছিল, তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়েছিল পরবর্তীকালে।

ইসরায়েল বিপুলভাবে জয়ী হয় এই যুদ্ধে। তারা গাজা এবং সিনাই উপদ্বীপ দখল করে নেয় যা কীনা ১৯৪৮ সাল হতে মিশরের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অন্যদিকে পূর্ব জেরুসালেম-সহ পশ্চিম তীরও তারা দখল করে নেয় জর্দানের কাছ থেকে। সিরিয়ার কাছ থেকে দখল করে গোলান মালভূমি। আরও পাঁচ লাখ ফিলিস্তিনিকে তাদের বাড়ি-ঘর ফেলে পালাতে হয়।

 

 

⏩ ' ইয়োম কিপুর' যুদ্ধ । ১৯৭৩ সালের অক্টোবরের এই যুদ্ধের একদিকে ছিল মিশর আর সিরিয়া, অন্যপক্ষে ইসরায়েল। মিশর এই যুদ্ধে সিনাই অঞ্চলে তাদের কিছু হারানো ভূমি পুনরুদ্ধার করে। তবে গাজা বা গোলান মালভূমি থেকে ইসরায়েলকে হটানো যায়নি।

কিন্তু এই যুদ্ধের ছয় বছর পর ঘটলো সেই ঐতিহাসিক সন্ধি। মিশর প্রথম কোন আরব রাষ্ট্র যারা ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করলো। এর পর তাদের পথ অনুসরণ করলো জর্দান।

কিন্তু তাই বলে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধ শেষ হলো না। গাজা ভূখন্ড যেটি বহু দশক ধরে ইসরায়েল দখল করে রেখেছিল, সেটি ১৯৯৪ সালে তারা ফিলিস্তিনিদের কাছে ফিরিয়ে দিল। সেখানে ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে বড় ধরণের লড়াই হয় ২০০৮, ২০০৯, ২০১২ এবং ২০১৪ সালে।

 

                        ★ইন্তিফাদা

 

 ইন্তিফাদা মানে ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের গণঅভ্যুত্থান। ১৯৮০ এর দশকের শেষ দিকে গাজা এলাকায় ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন শুরু হয়। প্রথম ইন্তিফাদা ১৯৮৭-১৯৯৩ সাল পর্যন্ত চলে। এ ছয় বছরে আইডিএফ আনুমানিক ১,১৬২-১,২০৪ জন ফিলিস্তিনি হত্যা করে। 

দ্বিতীয় ইন্তিফাদা সংঘটিত হয়েছিল ২০০০-২০০৫ সাল পর্যন্ত। এ্যারিয়েল শ্যারন হাজার খানেক সৈন্যবাহিনী নিয়ে জেরুজালেমের পুরাতন শহর,মসজিদ আল আকসা ভ্রমণ করতে আসলে এই ইন্তিফাদা শুরু হয়। তার এই ভ্রমণ ফিলিস্তিনিদের চোখে ইসলামের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ন মসজিদের উপর ইজরাইলি দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসাবে প্রতীয়মান হয়। 

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণার পর ফিলিস্তিনিরা প্রতিরোধ আন্দোলন বা তৃতীয় ইন্তিফাদা’র ডাক দিয়েছে। যদি ইন্তিফাদা শুরু হয়, অবারো রক্তাক্ত হবে ফিলিস্তিন। 

 

          ★ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি চুক্তি★ 

 

১৯৯৩ সালে পিএলও এবং ইসরায়েল একটি শান্তি চুক্তিতে সই করে। অসলো শান্তি চুক্তি নামে পরিচিত এটি। পিএলও সহিংসতা এবং সন্ত্রাসবাদের পথ পরিহার করে ইসরায়েলের অস্তিত্ব স্বীকার করে এবং শান্তির অঙ্গীকার করে। তবে হামাস কখনোই এই চুক্তি মানেনি।

চুক্তি অনুসারে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি ভূখন্ডে তাদের দখলদারিত্বের অবসান ঘটানোর অঙ্গীকার করে। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে সরে আসার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু ইসরায়েল এই প্রতিশ্রুতি কখনোই বাস্তবায়ন করেনি। তারা বরং অধিকৃত এলাকায় ইহুদী বসতি গড়ে তোলে।২০১৫ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে ঘোষণা দেন, তারা আর এই শান্তি চুক্তি মেনে চলতে বাধ্য নন, কারণ ইসরায়েল এই চুক্তি মেনে চলেনি।

 

        ★ট্রাম্পের শাসনামলে নতুন সংকট★ 

 

ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ইসরায়েলে আমেরিকার দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করে। তার এমন সিদ্ধান্তে ফিলিস্তিনিরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে৷ ফিলিস্তিনিরা জেরুজালেমে তাদের রাজধানী প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলো। 

বর্তমানে ট্রাম্প শান্তি চুক্তির নামে আরব দেশগুলোর সাথে ইসরায়েলের বন্ধুত্ব করাতে ব্যস্ত। ইতোমধ্যে  বাহরাইন এবং আরব আমিরাত ইসরায়েলের সাথে কয়েকটি চুক্তির মাধ্যমে মৈত্রীতার বন্ধন সৃষ্টি করেছে।  এই উদ্যোগ আসলেই শান্তির দিকে নিয়ে যাবে, নাকি এটা নতুন কোনো ফাঁদ, সেটা হয়তো অদূর ভবিষ্যতে জানা যাবে। তবে অধিকাংশ রাজনীতিবিদদের মতে,  এই  উদ্যোগ আরব রাষ্ট্রগুলোর সুফল বয়ে আনলেও, ফিলিস্তিনিরা তাদের অধিকার ফিরে পাবে না। বরঞ্চ ফিলিস্তিনিদের উপর হত্যাযজ্ঞ আরো সহজ হবে ইসরায়েলের জন্য। 

 

      ★ সমাধান কোন পথে ? ★

 

এই সঙ্কটের সমাধানে নানা মুনির নানা মত থাকলেও, মূলত কার্যকারিতার অভাবে সমাধানে পৌঁছাবে না। এই সঙ্কটের সমাধান এক মাত্র আমেরিকার হাতে। কিন্তু শান্তি চুক্তির নামে আমেরিকা যেই পথে হেঁটেছে, তাতে সমাধানের পরিবর্তে সংঘাত বাড়িয়েছে। মূলত, আমেরিকা এক পাক্ষিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বার বার। যেখানে ইসরাইলীদেরকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। 

 

আমেরিকা শান্তিচুক্তির নামে নতুন যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতেও স্পষ্টই বুঝা যায়, এই সঙ্কটের সমাধান আরো পিছিয়ে গেলো।

 

 

মোঃ নাজমুল হুদা
টিম: উদ্দ্যীপ্ত তারুণ্য 
ক্যারিয়ার ক্লাব অব আর্টস ফ্যাকাল্টি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়             
এই বিভাগের আরও