ভূরাজনীতি ও বাংলাদেশ || ✍: নিজামুল ইসলাম || ক্যারিয়ার ক্লাব অফ আর্টস ফ্যাকাল্টি (ক্যাফ) ||

এস এইচ/এস ই

১৭-১০-২০২০

This image is not found

ভূরাজনীতি শব্দের  ইংরেজি  প্রতিশব্দ  হলো Geo politics । এটি এসেছে  গ্রিক শব্দ geo (ভূমি)এবং politicos (রাষ্ট্র সম্পর্কিত) থেকে। সুতরাং ভূ-রাজনীতি ভূগোল ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে একত্রিত করে এবং এর মাধ্যমে রাজনৈতিক শক্তি  ও ভৌগোলিক উপাদানের সম্বনয়  সাধন করে। 

N.J.Spkysman বলেছেন, "ভৌগোলিক বাস্তবতার ভিতিত্তে রাষ্ট্রের নিরাপত্তাজনিত নীতি প্রণয়ন করাকে ভূরাজনীতি বলে। 

এর জনক সুইডেনের Goleborg University এর অধ্যাপক  Kjellen। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ভূরাজনীতির  ব্যবহৃত হলেও এটির ব্যবহার ব্যাপকভাবে শুরু হয় 1924 সালে  Journal of geopolitics  এ প্রকাশের সাথে সাথে। 

দ্বিতীয়  বিশ্বযুদ্ধের পর ভূরাজনীতির মেরুকরণ  দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে (যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন কেন্দ্রিক)। এই দুই  পারমানবিক শক্তিসম্পূর্ণ দেশের প্রভাবে বিশ্বরাজনীতির নতুন মেরুকরণের সৃষ্টি হয়। শুরু হয় স্নায়ু যুদ্ধ, তারকাযুদ্ধ। এর ফলে পৃথিবীতে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক আগ্রাসন বৃদ্ধি পেলেও কিন্তু ভূমি দখলের রাজনীতি শেষ হয়নি। অধিকন্তু  নতুন নতুন নতুন কৌশলের মাধ্যমে স্থানিক প্রভুত্ব বৃদ্ধি পায় এবং  ভূকৌশলপূর্ণ স্থানগুলো নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের কাছে পরাস্ত  হয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হয় এবং অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী রাশিয়ার জন্ম হয়। তারপর   রাশিয়ার চেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠে যুক্তরাষ্ট্র ।

 

 

সময়ের মেরুকরণে সাম্প্রতিক সময়ে তৃতীয়  একটি এশীয় দেশ চীন পরাশক্তি হয়ে উঠেছে ।চীনের অর্থনৈতিক ও সামরিক অভ্যুত্থানের ফলে পৃথিবীর রাজনীতির মেরুকরণ কিছুটা  পট পরিবর্তন হয়ে চীনের দিকে  হেলে পড়েছে। পূর্বের চেয়ে রাশিয়ার শক্তির ক্ষয় হয়েছে অনেক , ক্ষয় হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রেরও। তাইতো বর্তমান  বাণিজ্য ও প্রতিপত্তির প্রভাব  ধরে রাখার  লড়াই অনেকটাই দ্বিমুখী।  অর্থাৎ  চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রিক।ভৌগোলিকভাবে দক্ষিণ পূর্ব  এশিয়ার  দেশ বাংলাদেশ।   ভূকৌশল দিক থেকে বাংলাদেশের গুরুত্ব ছিল , আছে এবং থাকবে । বাংলাদেশের ভিতর বড় নদ নদী এবং এর দক্ষিণে সুবিশাল জলরাশি বঙ্গবসাগর থাকায় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকরা  বুঝতে পেরেছিল  যে এখানে নৌশক্তি আবির্ভাবের সকল নিয়ামক অনুকূলে রয়েছে । তারা বিশ্বরাজনীতি ও বিশ্ববাণিজ্যের চ্যালেঞ্জ   মোকাবেলার জন্য  কোলকাতা  বন্দর তৈরী করেছিল।  বিশ্ব বাণিজ্যের  নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে নৌপথ। এজন্য সবচেয়ে বড় 

পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরুদ্ধ হলো পৃথিবীর কোথাও নতুন কোন শক্তিশালী নোশক্তির আবির্ভাব। তাইতো যুক্তরাষ্ট্র চাইবে না তাদের প্রধান পরাশক্তি  চীন বঙ্গবসাগর নিয়ন্ত্রণ করুক। যুক্তরাষ্ট্র চায় তার মিত্র রাষ্ট্র ভারত এই অঞ্চলে একক আধিপত্য বজায় রাখুক। বাংলাদেশ পূর্বের চেয়ে বাংলাদেশ  পরনির্ভশীলতা পরিহার করলেও       দ্বিমুখী ভূরিজনৈতিক প্রভাব বিদ্যমান। অর্থ্যাৎ  মিত্র ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র এবং  তাদের পরাশক্তি চীনের।  তাইতো  বাংলাদেশকে বাগে আনতে অর্থনৈতিক ভাবে বিভিন্ন রকম সাহায্য সহযোগিতা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে তা আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। 27 এপ্রিল 2018 সালে বিবিসি বাংলায় " বাংলাদেশকে নিয়ে চীন ও ভারতের দ্বন্দ্ব:নেপথ্যে কি?"শিরোনামে  খবর প্রকাশিত হয়েছে। যা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গলজনক আবার উদ্বেগের কারণও বটে। 

 

 

ভূরাজনীতি ধারণাটি মূলত উৎপত্তি হয়েছিল  নিজ রাষ্ট্রের জৈবিক বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমস্যাগুলোতে ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক জ্ঞান রেখে সমস্যা সমাধান করা। কিন্তু  বর্তমানে ভূরাজনীতি সম্পর্কিত ধারণা পরিবর্তিত হয়ে অনেকটা কর্তৃত্ববাদী ও প্রভাব প্রতিপত্তিত্বে  কায়েম হয়েছে। যা আমরা বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের বিভিন্ন সময়ের  উক্তি ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রের  কৃতকর্মে  পরিলক্ষিত করেছি। Isaiah Bowman এর মতে "ভূরাজনীতি হলো চুরির জন্য একটি কৈফয়তের বাস্তবতা "।কার্ল হাওফোর জৈবিক রাষ্ট্রের সমর্থনে বলেছিলেন " জনসাধারণের কল্যাণার্থে রাষ্ট্র প্রয়োজনমত তার সীমানা বর্ধিত করতে পারে । এই মতবাদের উপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য নাৎসি- জার্মানির বৈদেশিক নীতিগ্রহন করেছিল।  এই নীতির সমালোচনা করে আমেরিকান বুদ্ধজীবিরা  ভূরাজনীতিকে "একটি শক্তির আকাঙ্ক্ষার খেলায় ভৌগোলিক নীতি প্রয়োগ" বলে আখ্যায়িত করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নতুন  রাজনৈতিক মেরুকরণে বিশ্বের পরাশক্তি দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন সচেষ্ট থাকে কে কত বেশি নিজেদের  প্রভাব বিস্তার করতে। সেজন্য তারা বিশ্বের বিভিন্ন  প্রান্তে সামরিক ঘাটি গড়ে তোলে এবং একে অপরকে স্নায়ু যুদ্ধের মাধ্যমে কোণঠাসা করার চেষ্টা করতে থাকে। অপেক্ষাকৃত দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোকে আর্থিক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে নিজেদের দলে ভিড়িয়ে   বিশ্বের  গুরুত্বপূর্ণ  স্থানগুলো নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে  । কিন্তু  এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের কাছে পরাস্ত হয় সোভিয়েত ইউনিয়ন।  জন্ম হয় নতুন রাষ্ট্র রাশিয়ার। তবে গত দুই দশকে  সবচেয়ে বড় দুই পরাশক্তি দেশ  যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রভাবপ্রতিপত্তির বিকেন্দ্রীকরণ হয়েছে। নতুন  পরাশক্তি দেশ হিসেবে  যুক্ত হয়েছে চীনের নাম।  চীনের  অর্থনৈতিক  ও সামরিক উত্থানের ফলে  বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক  কলাকৌশলের যথেষ্ট  পরিবর্তন ও পরিবর্ধন  হয়েছে।  চীনের  আবির্ভাবের ফলে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব সংকুচিত হয়েছে,  যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য  বড় হুমকি।  তাইতো  তারা  চীনের প্রভাবকে সংকুচিত করতে নানা ধরনের প্রচেষ্টা  অব্যাহত রেখেছে। চীনের অর্থনৈতিক  কার্যক্রম পরিচালনার জন্য  সমুদ্র পথে বিভিন্ন পণ্য আমদানি ও রফতানি করে তার  শতকরা 80 ভাগ হয় মালাক্কা প্রণালী দিয়ে। কিন্তু  যুক্তরাষ্ট্র চীনকে  মালাক্কা প্রণালীতে আটকানোর পরিকল্পনা করেছে। তাই চীন মালাক্কাকে বাইপাস করে ভারত মহাসাগরে পৌছানোর চেষ্টা করছে।  যা ভারতের  আঞ্চলিক নিরাপত্তার হুমকি স্বরুপ।  যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের  মধ্যে  সুসম্পর্ক বিদ্যমান,  আবার চীন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বৈরী।

 

অন্যদিকে দক্ষিণ  এশিয়ার  সবচেয়ে বড় দুই  পরাশক্তি  ও পরস্পর বৈরী দেশ হলো চীন ও ভারত  । তাই যুক্তরাষ্ট্র বা ভারত কেউ চাইবে না এই অঞ্চলে  চীন শক্তভাবে  অবস্থান করুক।  

আবার এই  অঞ্চলে  বাংলাদেশের  অবস্থান ও ভূকাঠামোর কারণে   বিশ্বরাজনীতে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ  হয়ে  উঠেছে। তাইতো কেবল এক সপ্তাহের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার  ভিত্তিক দুটো প্রতিষ্ঠান এ নিয়ে দু'টি  নিবন্ধন প্রকাশ করেছে। 

অস্ট্রেলিয়ার গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'ইস্ট এশিয়া ফোরাম'র নিবন্ধনটির শিরোনাম হলো" Chinese and India's geopolitical tag of war for Bangladesh "। অর্থাৎ বাংলাদেশ নিয়ে  চীন ও ভারতের ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। 

আর নিউইয়র্ক ভিত্তিক '  World policy review '

এই বিষয়ে ' Wedraw Wilson International Center for Scholers ' এর একজনের অভিমত ছেপেছে। শিরোনামটি হলো" What India and Chinese  are competing for better ties with Bangladesh ?"। অর্থাৎ  বাংলাদেশের সাথে ভালো সম্পর্ক  গড়তে কেন ভারত আর চীনের মধ্যে দ্বন্দ্ব? 

 

 

দুটি লেখাতেই বাংলাদেশর সঙ্গে চীন ও ভারতের আঞ্চলিক সম্পর্ক, ব্যবসা বাণিজ্য, নিরাপত্তা সহযোগিতা,  বাংলাদেশের উপর প্রভাব বিস্তারের জন্য এই বৃহৎ দুই শক্তির দ্বন্দ্বের বিষয়ে বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ করেছে। 

 ইস্ট এশিয়া  ফোরামে প্রকাশিত লেখায়  ফরেস্ট কুকসন বলেছেন চীন ও ভারতে সাথে বাংলাদেশের  রয়েছে ঘনিষ্ঠ  অর্থনৈতিক-বাণিজ্যিক ও সামরিক সম্পর্ক। তবে বাংলাদেশের  সাথে ভারতের সম্পর্ক   ঐতিহাসিক     সংস্কৃতিক ও ধর্মীয়।  এই  কথা যে  সম্পূর্ণ সত্য তা স্বীকার করেছেন বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। বাংলাদেশের সাথে  বাণিজ্যিকভাবে উভয়েই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু  ভারতের চেয়ে  চীনের বিপুল বাণিজ্যিক উদ্বৃত্ত  ও চীন বাংলাদেশকে  বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধা দেওয়ায় চীন অনেকটাই অগ্রগন্য। তাদের প্রতিবেদনে তারা তুলে ধরেছে 

যে চীন বাংলাদেশে রপ্তানি করে 16 থেকে 17 বিলিয়ন ডলার  । আর চীন বাংলাদেশ থেকে  আমদানি করেছে 75 বিলিয়ন ডলার (2016 সালের হিসাব অনুযায়ী)।  অন্যদিকে   একই সময়ে ভারত বাংলাদেশে রপ্তানি করেছে 8 বিলিয়ন ডলার আর  আমদানি করেছে 26 বিলিয়ন ডলার। আবার  ভারত যে সামরিক যন্ত্রাংশ  সরবরাহ করে তার  মান নিয়ে বাংলাদেশের অভিযোগ রয়েছে।  অর্থাৎ বাণিজ্যিক দিক দিয়ে চীন অনেকটাই এগিয়ে গেছে। চীনের থেকে ভারত যে  দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছে  তাহলো সংস্কৃতিক প্রভাব এবং বাংলাদেশের তিন দিক দিয়ে  ভারতের  সীমান্ত। বাংলাদেশর তিন দিকে ভারতের  সীমান্ত  তা বাংলাদেশের অন্যতম দুর্বল দিকও বটে। 

 

ভূরাজনীতিতে  বিশ্বে বাংলাদেশের এত কদর কেন?  কয়েকটি  বিষয় বিশ্লেষণ  করলেই বোঝা যায়। 28 সেপ্টেম্বর 2015 সালে প্রকাশিত BCS writen Online  coaching এর তিনটি  গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো। 

 

1.জলসীমার অর্থনৈতিক গুরুত্ব :

 

FOW এর মতে বাংলাদেশের সমুদ্রমীর মহীসোপানকে স্বর্ণের খনি বলা হয়। কারণ এখানে প্রচুর পরিমাণে মৎস্য সম্পদ আহরণের সুযোগ রয়েছে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে বঙ্গোপসাগরে 476 প্রজাপতির মাছ রয়েছে যা ধরতে পারলে  বাংলাদেশের মোট বাজেটের সমপরিমাণ অর্থ  উপার্জন সম্ভব। 

 

2.জলসীমার সামরিক  গুরুত্ব

 

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা একটি ত্রিভুজ  আকৃতির সৃষ্টি  করেছে। দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে দিয়াগো গার্সিয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আর কোন  সামরিক ঘাটি নেই। বাংলাদেশের এই ত্রিভুজ জলসীমায় যে  বৃহৎশক্তি নিয়ন্ত্রন রাখতে পারবে , সে পাশের দেশের সমুদ্রের উপর নিয়ন্ত্রন  রাখতে পারবে। এজন্য সেন্টমার্টিন একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ , যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন  সহ আরো অনেক দেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। 

 

3.দক্ষিণ দক্ষিণ পূর্ব  এশিয়ার রাজনৈতিক অবস্থান :

 

আঞ্চলিক সমঝোতা, বাণিজ্য ও নিরাপত্তার প্রশ্নে এক রাষ্ট্রের সাথে অন্য রাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ অবস্থান। 

এই বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের নেতৃত্বে দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশ নিয়ে SAARC নামে  একটি আঞ্চলিক সংগঠন গড়ে  উঠে। বাংলাদেশের পরাষ্ট্রনীতির একটি বড় বিজয়। এছাড়া ASEAN, BIMSTEC ও সিয়োটো সেন্টো ইত্যাদি  আঞ্চলিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক গোষ্ঠী দ্বারা বাংলাদেশ বহুলাংশে  প্রভাবিত। 

 

 

আর এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে  কৌশলে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ  নিজেদের উন্নয়নে কাজে লাগাতে  চাচ্ছে।  আমার মত এই যে বাংলাদেশকে অতি ধীরে এগুতে হবে  এবং দূরদর্শী  চিন্তাভাবনা করতে হবে।পরিস্থিতি অনুযায়ী  পরবর্তীতে দ্রুত  সিদ্ধান্ত নিতে  হবে  যাতে কোন বিপদ আসলে তা থেকে সহজেই  পরিত্রাণ পাওয়া যায়। বাংলাদেশ যেহেতু  কিছু ক্ষেত্র  বিশেষে  আত্মনির্ভশীল হয়েছে, যেমন: খাদ্য; তেমনি  টেকনিক্যাল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে  আত্মনির্ভর হতে হবে। এতে করে অন্য দেশ  বাংলাদেশের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না ।বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষিত  হবে।  বাংলাদেশকে  ভাবতে হবে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত  ও চীন এরা কেউই প্রকৃত  বন্ধু না।  কারণ  রোহিঙ্গা ইস্যু  যেটা বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা সেটা নিয়ে  মিয়ানমারকে কেউ  চাপ প্রয়োগ করেনি  এবং এখনও করতেছেন না। যদিও  কিছু  দিন  আগে  যুক্তরাষ্ট্রের  পররাষ্ট্র মন্ত্রী  মাইক পম্পেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে  ফোন করে  রোহিঙ্গা  ইস্যু নিয়ে  সাহায্য করবে বলে আশ্বস্ত করে।  তবে কতটুকু সাহায্য করবে তা সময়ে বলে দেবে।  আবার  বাংলাদেশের সাথে ভারতের  তিস্তা চুক্তি  বাস্তবায়িত হয়নি এবং সীমান্তে  হত্যা শূন্যের  কোঠায়  নামিয়ে  আনবে বলে ভারত যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা তো  বাস্তবায়িত হয়নি বরং  বেড়েছে। আবার  বাংলাদেশ বাণিজ্যিক  চুক্তি মান্য  করলেও ভারত অনেক ক্ষেত্রে অমান্য করেছে।  তার সর্বশেষ সংযোজন হলো পেঁয়াজকান্ড। বাংলাদেশের সরকারকে বাংলাদেশের  জাতীয়  স্বার্থকে অগ্রাধিকার  দিয়ে কাজ করতে হবে।  এমন কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না , যে সিদ্ধান্ত সমগ্র জাতির দুঃখের কারণ হয়।

 

নিজামুল ইসলাম
টিম: মুক্ত কন্ঠ
ক্যারিয়ার ক্লাব অব আর্টস ফ্যাকাল্টি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়           
এই বিভাগের আরও