আজ অপু-দূর্গা স্রষ্টার জন্মদিন

মোঃ হিমেল হাসনাত রাফি, জাবি প্রতিনিধি:

১২-৯-২০২০

This image is not found

 

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় নামটা শুনলে আপনি প্রথমে কি ভাবেন? অনেকেই বলে উঠবে পথের পাঁচালী। আজ সেই পথের পাঁচালীর স্রষ্টা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন৷ যার লেখায় প্রেম, প্রকৃতি, সাধারণ মানুষের কথা ফুটে উঠেছে৷ বিখ্যাত এই কথাসাহিত্যিক রবীন্দ্র যুগের আগে ও পরে প্রবল পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন৷ 

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে আজকের এই দিনে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মহানন্দা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত সংস্কৃত পন্ডিত৷ তাঁর মাতার নাম মৃণালিনী দেবী। পাঁচ ভাই-বোনের মাঝে বিভূতিভূষণ ছিলো সবার বড়ো৷ 

পিতার কাছ থেকেই বিভূতিভূষণের লেখাপড়ার হাতে খড়ি হয়৷ এর পর নিজগ্রাম ও অন্যগ্রামে কয়েকটি পাঠশালায় পড়াশোনার পর 'বনগ্রাম উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে' ভর্তি হন৷ তিনি যখন ক্লাস এইটের ছাত্র, তখন তার পিতা প্রয়াত হন৷ যেহেতু পরিবারের বড় সন্তান, তাই সংসারের সব দায়িত্ব বর্তায় তার কাঁধে৷ সংসারের সব দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তিনি ১৯১৪ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ছোটকাল থেকেই মেধাবী ছাত্র ছিলেন বিভূতিভূষণ। 

তারপর ১৯১৮ সালে কলকাতার রিপন কলেজ (বর্তমানে সুরেন্দ্রনাথ কলেজ) থেকে ডিসটিংকশন নিয়ে বিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি৷ একই কলেজ থেকে কিছুদিন এমএ এবং আইন ক্লাসে পড়েছিলেন তিনি। 

তৃতীয় বর্ষে পড়বার সময় বসিরহাটের মেয়ে গৌরি দেবীর সাথে ১৯১৯ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন বিভূতিভূষণ। কিন্তু বিয়ের এক বছরের মধ্যেই মারা যান তার স্ত্রী। তখন তাঁর পড়াশোনারও ইতি ঘটে৷ এরপর ক'বছর তিনি সন্ন্যাসীর মতো জীবনযাপন করেন। এর পরে অবশ্য তিনি ১৯৪০ সালে ফরিদপুর জেলার ছয়গাঁও গ্রামের ষোড়শীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের মেয়ে রমা দেবীকে বিয়ে করেন। তাদের মাঝে বয়সের ব্যবধান ছিলো ২৯ বছরের৷ সাত বছর পর একমাত্র সন্তান তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় (বাবলু) জন্ম হয়। 

বিভূতিভূষণের কর্মজীবন শুরু হয় শিক্ষকতার মাধ্যমে৷ জীবদ্দশায় তিনি অনেক জায়গা ভ্রমণ করেন এবং অনেক স্কুলে শিক্ষকতা করেন৷ তিনি বনগাঁর ইছামতীর তীরের 'গোপালনগর হরিপদ ইনস্টিটিউট' স্কুলে আমৃত্যু কর্মরত ছিলেন৷ 

তাঁর সাহিত্যিক জীবনের সূত্রপাত ঘটে ১৯২১ সালে 'প্রবাসী' পত্রিকার মাঘ সংখ্যায় 'উপেক্ষিতা' নামক গল্পের মাধ্যমে৷ ছোটকাল থেকে লেখক অনেক দারিদ্রতার মাঝে জীবন কাটিয়েছেন৷ তাই তাঁর সাহিত্যে সাধারণ মানুষের কথা ফুটে উঠেছে৷ তিনি প্রকৃতিপ্রেমী ও মানুষের লেখক ছিলেন৷ জীবদ্দশায় তিনি জীববিজ্ঞান ও উদ্ভিদবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। তাই হয়তো তার রচনায় প্রকৃতি, গাছপালা ও ফুলফলের কথা সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছিলো৷ 

তিনি ১৯২৫ সালে 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস লিখা শুরু করেন। শেষ হয় ১৯২৮ সালে৷ পরে এই উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং বিপুল পাঠকপ্রিয়তা লাভ করে৷ এরপর তিনি 'অপরাজিতা' রচনা করেন যা পথের পাঁচালীর পরবর্তী অংশ। এ দুটি উপন্যাসেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিফলন ঘটেছে৷ পরবর্তীতে বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসের ছায়ায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন৷ যা দেশী-বিদেশী প্রচুর পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছিলো। 

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় উপন্যাস লেখার পাশাপাশি অনেক গল্প, কিশোরপাঠ্য রচনা, ভ্রমণকাহিনী, দিনলিপি রচনা করেন। পথের পাঁচালী,  অপরাজিতা, ইছামতী, আরণ্যক, অশনি সংকেত ইত্যাদি তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস।এছাড়াও তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ হলো– মেঘমল্লার, মৌরীফুল, যাত্রাবদল। তাঁর লিখা 'চাঁদের পাহাড়' হলো উল্লেখযোগ্য কিশোর উপন্যাস। ইছামতী উপন্যাসের জন্য ১৯৫১ সালে তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (মরণোত্তর) লাভ করেন৷ 

১৯৫০ সালের ১লা নভেম্বর হৃদরোগের কারনে বিখ্যাত কথাসাহিত্যিকের মৃত্যু ঘটে৷

এই বিভাগের আরও