দুলকার সালমান : একজন মালায়ালাম যুবরাজ।

২৮-৭-২০২০

This image is not found
লেখাঃ আসিফ ইনজামান হৃদয়,শিক্ষার্থী,  খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।


সময়টা,২০১৫ সালের মাঝামাঝি। পরিচিত হলাম মালায়ালাম সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি সাথে। তাদের বেশকিছু সিনেমা দেখে বিমোহিত হলাম। 
 মালায়ালাম থ্রিলার,রোমান্টিক, ড্রামাটিক  সিনেমাগুলোর মৌলিক গল্প,কাস্টিং,লোকেশন আর তাদের অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের ট্যালেন্ট তখন থেকেই মুগ্ধ করলো আমাকে। এই সিনেমাগুলি দেখার ফলে একজনের বেশ ভক্ত হয়ে উঠি, সে বর্তমান সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় তারকা, তরুণদের আইকন দুলকার সালমান।
জন্ম হয়েছিলো ১৯৮৬ সালের ২৮ই জুলাই,কেরালায়। 

বাবা ম্যামুট্টি মালায়ালাম সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির কিংবদন্তি নায়ক।বাবার দেখানো পথ অনুসরণ করে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন সালমান।দুলকারের জার্নি শুরু হয়েছিল ২০১২ সাল থেকেই,  ‘সেকেন্ড শো’ সিনেমা দিয়ে সিনেমা জগতে অভিষেক। সেই সিনেমা দিয়ে তিনি মালায়লাম ইন্ডাস্ট্রিতে নজর কাড়েন। একই বছর মুক্তিপ্রাপ্ত আলোচিত সিনেমা ‘উস্তাদ হোটেল’ এর বদলৌতে হয়ে উঠেন আলোচিত মুখ।তারপরের গল্পটা সকলেরই হয়তো জানা,এক এক অনবদ্য মুভি।২০১২ সাল থেকে এই পর্যন্ত ৮ বছরে ২৫ এর অধিক মুভিতে অভিনয় করে জিতেছেন বিভিন্ন এওয়ার্ডস ও ফ্লিমফেয়ার সাথে অজস্র ভক্তের মন।ভক্তদের মাঝে তিনি DQ  বা কুঞ্জিক্কা নামেও পরিচিত। দক্ষিনি চলচ্চিত্রগুলোর পাশাপাশি কাজ করেছেন বলিউডেও।বলিউডে কাজ করেছেন প্রয়াত ইরফান খানের সাথে 'কারওয়ান'মুভিতে, আর সোনাম কাপুরের সাথে দ্যা জয়া ফ্যাক্টর মুভিতে।তার সিনেমার গল্পের মতো তার পার্শ্ব চরিত্রেও দেখতে আমরা দক্ষিণ ভারতীয়  কিছু অসাধারণ নায়িকাকে দেখতে পেয়েছি,কখনো পার্বতী, কখনো নিথিয়া মেনন,কখনো সাই পল্লবী আবার কখনো নাজরিয়া নাজিম এবং,ঋতু ভার্মা,কির্তী সুরেশ এর মতো কিছু প্রতিভাবান নায়িকা।
তার অভিনীত চার্লি সিনেমাটি অধিকাংশ মানুষের পছন্দের, অনুপ্রেরণা মুলক সিনেমাটি আপনাকে অনেক কিছু শেখাবে।
তাঁর বিখ্যাত সিনেমা ‘চার্লি’ দেখে মনে পড়ে হুমায়ূন আহমেদের সেই বিখ্যাত ‘হিমু’ চরিত্রটির কথা। ‘ব্যাঙ্গালোর ডেয়জ’ বলে দেয় অকৃত্রিম বন্ধুত্বের কথা। ১০০০ ডেয়জ অব লাভ দেখাবে একজন প্রেমিকার গল্প।
তাছাড়াও ওস্তাদ হোটেল,প্রাভা গল্প আপনাকে মুগ্ধ করবে,সেই সাথে কালি,কান্নুম কান্নুম কাল্লিয়াধাল,মাহান্তী,কমরেড ইন আমেরিকা,সোলো,বিক্রমাদিত্যান এর মতো কিছু সিনেমাও আপনার ভালোলাগার তালিকায় স্থান পাবে।'ও কাধাল কানমনি’ দিয়ে তামিল সিনেমায় তিনি কাজ করেছেন মনি রত্নমের মত কিংবদন্তিতুল্য পরিচালকের অধীনে। সিনেমাটি ২০১৭ সালে হিন্দিতে রিমেক হয়েছেন ‘ওকে জানু’ নামে।মুক্তির অপেক্ষায় আছে বেশ কিছু চলচ্চিত্র, বর্তমানে পারিশ্রমিক ও বেশ। সিনেমা বাছাইয়ে বেশ সুনির্বচনীয় হিসেবেও খ্যাতি রয়েছে। এজন্যই তো ক্যারিয়ারের অধিকাংশ সিনেমাই তাঁর ব্যবসায়িক সাফল্য পেয়েছে।

সিনেমায় আসার আগে তিনি ছিলেন সফল এক উদ্যোক্তা। গাড়ি বেচাকেনার একটা ওয়েব পোর্টাল চালাতেন। এখনো চেন্নাইয়ে তাঁর ব্যবসা আছে। তবে, সব কিছু ছাপিয়ে এখন অভিনয়টাই মুখ্য।শুধু অভিনয় নয় পাশাপাশি গান ও বিজ্ঞাপনেও কাজ করেছেন তিনি।২০১১ সালের ২২ ডিসেম্বর স্থপতি অমল সুফিয়াকে বিয়ে করেন। বর্তমানে তিনি এক সন্তানের জনক ও। বলতে গেলে সফল অভিনেতা ও ব্যবসায়ী ছাড়াও একজন সন্তান,স্বামী ও পিতা হিসাবে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তিনি।

দুলকার সালমান কেবল মালায়ালাম ইন্ডাস্ট্রিতেই নয়, গোটা ভারত বর্ষেই নিজের আলাদা একটা ক্ষেত্র তৈরি করেছেন। বাংলাদেশও তার বিরাট ফ্যান গ্রুপ রয়েছে,অজস্র বাংলাদেশীর পছন্দের একজন হিরো সে।
তিনি শুধু মালায়ালাম ইন্ডাস্ট্রির ইন্ডাস্ট্রির যুবরাজ নয়, বলতে গেলে ভারতীয় সিনেমার  একজন উজ্জ্বল নক্ষত্রও।

 

 

এই বিভাগের আরও