একজন আলোর মানুষের কারিগর

২৫-৭-২০২০

This image is not found

 

মোঃ হিমেল হাসনাত রাফি, জাবি প্রতিনিধিঃ 

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ,সাহিত্যিক,সমাজসংস্কারক ও একজন আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর অধ্যাপক  আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের ৮১ তম জন্মদিন আজ। ১৯৩৯ সালের এই দিনে কলকাতার পার্ক সার্কাসে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার কামারগাতি গ্রামে।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে চল্লিশ বছর ধরে তিনি বাংলাদেশে 'আলোকিত মানুষ' তৈরির কাজে সদা নিয়োজিত রয়েছেন৷ মূলত বইপড়া কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে কাজ করেছেন,এখনও করে যাচ্ছেন। 

১৯৫৫ সালে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ পাবনা জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক,১৯৫৭ সালে বাগেরহাটের প্রফুল্লচন্দ্র কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন।১৯৬০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও ১৯৬১ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

ষাটের দশকে বাংলাদেশে নতুন ধারার সাহিত্য আন্দোলন শুরু হয়।তিনি ছিলেন তার সম্মুখ নেতৃত্বে। সাহিত্য পত্রিকা 'কণ্ঠস্বর' সম্পাদনার মাধ্যমে তিনি তখনকার নবীন সাহিত্যযাত্রাকে বেগবান করেন।ষাটের দশকে তিনি একজন প্রতিশ্রুতিশীল কবি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বেশ কিছুকাল তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-এর উপস্থাপক হিসেবে কাজ করেন।

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ১৯৬১ সালে মুন্সিগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজে খণ্ডকালীন প্রভাষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। দেশে পাঠাগারের অপ্রতুলতা অনুধাবন করে ১৯৯৮ সালে তিনি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মাধ্যমে পুরো দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির কার্যক্রম শুরু করেন৷ 

কর্মময় জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি সাহিত্যচর্চায় সদা নিবিষ্ট।কবিতা,প্রবন্ধ,ছোটগল্প,নাটক,অনুবাদ ইত্যাদি মিলিয়ে তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ২৭ টির মতো। 

সামাজিক বিভিন্ন আন্দোলনে তার নেতৃত্ব ছিলো প্রশংসনীয়।ডেঙ্গু প্রতিরোধ আন্দোলন,পরিবেশ দূষণবিরোধী আন্দোলনে তিনি সামনে থেকে বুদ্ধিদীপ্ত নেতৃত্ব দিয়েছেন। 

কর্মময় জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি শিক্ষায় একুশে পদক, র‍্যামন ম্যাগস্যাসে,জাতীয় টেলিভিশন, বাংলাদেশ বুক ক্লাব পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

এই বিভাগের আরও