আসছে ভূমিকম্প ও সুনামির পূর্বাভাস দেয়ার প্রযুক্তি- গুগলের ট্রায়াল

২২-৭-২০২০

This image is not found
পলাশ দেব রায় : 

 

প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে পূর্বাভাস দিয়ে মানুষকে সতর্ক করে দিতে পারলে অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ইত্যাদি কিছু ক্ষেত্রে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া সম্ভবপর হওয়ায় এখন বেশ আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করা সম্ভব হচ্ছে। তবে ভূমিকম্প কিংবা সমুদ্রে ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামি সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয়ার কোন প্রযুক্তি না থাকায় এ বিষয়ে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এখনো দৈব ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে হয়।   


তবে টেক জায়ান্ট গুগল ভূমিকম্প ও সুনামির পূর্বাভাস দেয়া নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরেই গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি সমুদ্রের নিচ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ক্যাবল (ফাইবার অপটিক ক্যাবল) যা দিয়ে বিশ্বের সাথে ইন্টারনেট সংযোগ বিদ্যমান সেটি ব্যবহার করে ভূমিকম্প ও সুনামির পূর্বাভাস দেয়ার প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে গুগল। 


ফাইবার অপটিক ক্যাবল দিয়ে আলোর গতিতে তথ্য আদান প্রদান করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ডেটাকে পাঠানো হয় আলোক সংকেতের মাধ্যমে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যদি আশেপাশের পরিবেশে ফলে কোন যান্ত্রিক গোলযোগের সৃষ্টি হয় তখন এই ক্যাবলের মধ্যের আলোর পোলারাইজেশনে পরিবর্তন আসে। যাকে SOP (State of Polarisation) বলে। ফলে ফাইবার অপটিকের মধ্য দিয়ে ডেটা প্রবাহেও পরিবর্তন দেখা যায়। মূলত এই পরিবর্তনগত তারতম্য বিশ্লেষণ করেই বিজ্ঞানীরা ভূমিকম্প ও সুনামির পূর্বাভাসের প্রযুক্তি আবিষ্কার করার পথে সাফল্য পেয়েছেন। 


২০১৯ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া এই পরীক্ষায় ইতিমধ্যে পূর্ব প্যাসিফিক এ ৬.১ মাত্রার এবং চিলিতে ৪.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব হয়েছে। এমনকি জ্যামাইকায় হওয়া ৭.৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প সম্পর্কে স্থানটি থেকে প্রায় ১৫০০ কি.মি. দূরে অবস্থিত ফাইবার অপটিক ক্যাবলের পাওয়া উপাত্ত থেকে পূর্বাভাস পাওয়া গিয়েছে বলেও দাবি গুগলের। 


ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সিসমোলজিক্যাল ল্যাবরেটরির গবেষক ড. ঝংওয়ে ঝাও বলেন, পরীক্ষিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে সুনামির পূর্বাভাস খুব ভালোভাবে দেয়া সম্ভব। কোন ভূমিকম্পের কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে যদি এই ক্যাবল গিয়ে থাকে তবে আলোর গতিতে এর তথ্য আদান প্রদান হওয়ায় বেশ আগেভাগেই সুনির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব সুনামি হবে কি না। 


বিশ্বজুড়ে প্রায় দশহাজার কি.মি. সাবমেরিন ক্যাবল বিদ্যমান। এখন এই প্রযুক্তি কত দ্রুত সামগ্রিক কাজে লাগানো শুরু করা যায় সেটিই দেখার বিষয়।