কবিতা : নাগরিক কোলাহল | ✍ মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান | পূর্ব-পশ্চিম

২১-৭-২০২০

This image is not found

নাগরিক কোলাহল

আজ নাগরিক কোলাহলে বিপন্ন আমি আর আমার সত্তা,

সত্তা চায় উড়তে, পাখির মতো হাতড়াতে পৃথিবী! 
কিন্তু তখনি ধরা, ধরা পড়ে এক শিকলবিহীন জেলে,
আমি-তুমি-আমার মতো হাজার জীবন শিকল বিহীন বদ্ধ।

আমি যেমন আমার জড়ানো খাট,
 আর মোবাইল থেকে মুক্তি চাই,
তেমনি এক প্রান্তে মুক্তি খোঁজে, 
পথের সন্ধানহীন পথিক।
মুক্তি খুঁজে সেই দরিদ্র কৃষক যার, 
ক্ষেতের ফসল এখনো কাটা হয়নি।

হিমু আজ বন্দী ঘরে,হাঁটা কিংবা চিন্তা হচ্ছেনা তার!
পৃথিবীর হিমুরা যদি চোখ না মেলে,
মাটিতে তার খালি পা না পরে ।
তবে কি বাঁচবো আমরা?বেঁচেও মরার স্বাদ নিত্যসঙ্গী।

হিমু চায় তার রিকশাওয়ালা মজিদকে,
ঠেলাওয়ালা বদরুলকে বিভ্রান্ত করতে,
কিন্তু সে অপারগ শিকলবন্দী।  

নাগরিক কোলাহল আজ কর্মহীন, 
নিস্তব্ধ,শিকলহীন বন্দী, 
আজ তুমি-আমি-আমাদের কথা ভেবে যখন,
তাদের কথা ভুলে যাই তখন,
নগর আর নগরজীবন মিলে ঠাট্টা করে ,
তখন জীবন আর অস্তিত্ব মিলে বিভ্রান্তে মেতে উঠে।


আমি আজ তার কোলাহল শুনতে চাই,
আজ তার বিশ্রী হর্ণ, বেলের আওয়াজ, 
নষ্ট স্ট্রিট লাইট,রাস্তার মারামারি, 
রিকসাওয়ালার  ঝগড়া, পথিকের  অবুঝ চাহনি, 
সাইদ ভাইয়ের চা,পিচ্চির দোকান, 
ফিরে পেতে চাই,সব ফিরে পেতে চাই।


কঠিন সময়ে তুচ্ছের পিছু নেওয়া,
প্রাণীর নামই হয়ত মানুষ,
সেই হয়ত মানবের হোমোস্যাপিয়েন্স। 

আমি আজ টাকা কড়ি কোমল ভালবাসা থেকে দূরে,
চাই শুধু এক খন্ড জীবন,
যে জীবন এক তুচ্ছ মায়ার লোভে,
জীবনের ফাঁদে বন্দী !!

আজ আমি মুক্তি চাই,
ফিরে যেতে চাই আমার নাগরিক কোলাহলে।। 

 

সম্পাদনায় : সাজ্জাদ হোসেন 

এই বিভাগের আরও