সেদিন বৃষ্টি হয়েছিল

৪-৭-২০২০

This image is not found

সেদিন বৃষ্টি হয়েছিল

আমি চাকরি খুঁজছি এক বছর ধরে। এই মুহুর্তে আমার একটা চাকরির প্রয়োজন। ওদিকে মীরার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।ছেলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। ও!মীরার পরিচয়টা দিয়ে নিই। ও আমার প্রেমিকা।প্রাক্তন হয়ে যাবে ক'দিন পর। 
ভার্সিটিতে আমরা বন্ধু ছিলাম। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। রুটিন করে ফোনে কথা বলা, ক্যাম্পাসে একসাথে ঘুরে বেড়ানো, বৃষ্টির দিনে একসাথে ভেজা, জন্মদিনে সারপ্রাইজ পার্টি দেয়া। সবই ছিলো। যাকে বলে পারফেক্ট কাপল। দুইদিন বাদে তার বিয়ে।আর  আমি এদিকে চাকরি খুঁজছি।ক'দিন আগে একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভাইবা দিয়েছিলাম। রেজাল্টটা এখনও দিচ্ছেনা। মীরা এখনও আশায় আছে। প্রত্যেকদিন খোঁজ নেয়। চাকরির রেজাল্ট দিয়েছে কিনা!আমি উত্তর দিতে পারি না। 
(২)
খুব সকালে ঘুম ভাঙ্গলো আমার। আজকে মীরার বিয়ে। আমাকে দাওয়াত দিয়েছে৷ না গেলে,কেমন দেখায়৷ শফিকের থেকে কিছু টাকা ধার করে একটা গিফট কিনলাম। বিয়ে হবে "সুনন্দা কমিউনিটি সেন্টারে"। হেঁটেই যাচ্ছিলাম। আজকে মনে হয় বৃষ্টি হবে খুব। হঠাৎ ফোনে মেসেজ আসলো।মেসেজ চেক করে দেখি, আমার চাকরির রেজাল্ট দিয়েছে। আমার চাকরি হয়ে গেছে। মনটা কেন যেনো খারাপ হয়ে গেলো। অথচ আমার খুশি হওয়ার কথা।বৃষ্টি পড়া শুরু হয়ে গেছে। যাকে বলে অঝোর বৃষ্টি। আমি ভিজছি। গিফটাও ভিজে যাচ্ছে। 
কোনো কিছু না ভেবে আমি মীরাকে ফোন দিলাম। 
  –হ্যালো,মীরা। 
  –এই তুমি কোথায়? আসো নি এখনও? বর যাত্রী এসে গেছে।তুমি কবে টাইমমতো কিছু করবে?
  – মীরা, আমার চাকরিটা হয়ে গেছে। 
  –কি? সত্যি? তুমি এখন আছো কোথায়?
  –কমলাপুর।
  –তুমি দুইটা ট্রেনের টিকিট কাটো। আমি আসছি। 
  –কি বলছো,মীরা? মীরা..মীরা..
ফোনটা কেটে গেছে। এখন কি করবো আমি?মাথায়  কিচ্ছু ঢুকছে না৷ মীরার পাগলামির স্বভাব আছে।আজকেও কি পাগলামি করবে?বৃষ্টিটাও কমে এসেছে। এখন ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে।পুরো রাস্তা পানিতে ভরে গেছে। রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। হঠাৎ একটা ড্রেনে পড়ে গেলাম।গিফটটা ড্রেনে পড়ে গেছে,সাথে চশমাটাও।চশমা ছাড়া সব ঝাপসা দেখছি চোখে।আমার গন্তব্য এখন স্টেশনে..
(৩)
কোন কিছু না ভেবে, দুইটা টিকিট কেটে ফেললাম। সিট পাইনি। স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটেছি৷ ট্রেন ছাড়বে দুটোয়। আমি প্ল্যাটফর্মের সীটে বসে আছি।মীরা কি সত্যিই আসবে?চশমা ছাড়া সব ঝাপসা দেখছি। পুরো গা ভিজে একাকার হয়ে আছে। 
এখন দুটো দশ বাজে৷ যথারীতি ট্রেন লেট করছে। এ আর নতুন কি? মীরার দেখা পাচ্ছি না। একটা ফোন দিবো?ফোন খুলতে গিয়ে দেখি, ফোনে চার্জ নেই।  ট্রেন এসে গেছে৷ সব যাত্রীরা ট্রেনে উঠে যাচ্ছে। চোখে সব ঝাপসা দেখছি৷ 
আমি দাঁড়িয়ে আছি প্ল্যাটফর্মে। হঠাৎ শুনতে পেলাম কে যেনো আমায় ডাকছে। এইতো মীরার গলা। মীরা এসে গেছে তাহলে। নিজেকে পৃথিবীর সবচে' সুখী মানুষ মনে হচ্ছে। কিন্তু আমি মীরাকে দেখতে পাচ্ছি না।কোন দিকে সে? সব ঝাপসা দেখছি। ট্রেনটা ছেড়ে দিবে। মীরা দৌড়ে আসলো আমার সামনে। গয়নাভর্তি দেহ। একটা নীল শাড়ি পড়ে আছে৷ কি সুন্দর লাগছে তাকে!
  –এই, তুমি কি বিয়েতে নীল শাড়ি পড়েছিলে?
  – গাধা,এসব কথা পরে বলবো। ট্রেন ছেড়ে দিবে এখন। আর তুমি ভুল প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছো?
  –আসলে, চশমাটা ভেঙ্গে ফেলেছিলাম। তাই...
কথা শেষ হতে দিলোনা। মীরা আমাকে হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছে ।সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।মীরা নূপুরও পড়েছে দেখছি। কানে নূপুরের আওয়াজ ভেসে আসছে...
(সমাপ্ত)

লেখক

হিমেল হাসনাত রাফি৷

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় 

এই বিভাগের আরও