রক্ত

৪-৭-২০২০

This image is not found

রক্ত

রহমান সাহেব খুব ক্লান্তি নিয়ে অফিস থেকে ফিরেছেন। এতো ক্লান্ত যে না খেয়ে বিছানায় গা এলিয়ে সাথেসাথে ঘুমিয়ে পড়েন। 
মাঝরাতে হঠাৎ তার ঘুম ভেঙ্গে গেলো একটা চিৎকারের শব্দে। বিছানা থেকে উঠে গেলেন।কথার আওয়াজ ভেসে আসছে। ঘরে তো কেউ নেই, স্ত্রী-বাচ্চারা বাড়ি চলে গেছে করোনা পরিস্থিতির জন্য। তিনি মতিঝিল বেসিক ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা। এজন্য একা ঢাকা পড়ে আছেন।
তিনি ভাবতে লাগেন চোর নয়তো আবার। এবার স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছেন মেয়েলী গলায় কেউ বলছে, "মা, চলে আয় লোকটা উঠে পড়েছে। তোকে এক্ষুনি মেরে ফেলবে।কথা শুন প্লিজ। "
আশ্চর্য ঘরেতো কেউই নেই, হঠাৎ তিনি তার বা'হাতে সুচের গুতোর মতোন ব্যথা অনুভব করলেন।দেখলেন ছোট্ট একটা মশা তার হাতে বসে আছে, রক্ত খাচ্ছে৷ আবার কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি শুনতে পেলেন, "এইতো লোকটা তোকে দেখে ফেলেছে, তোকে এখনই মেরে ফেলবে! তুই উড়ে আয় এক্ষুনি।" 
রহমান সাহেব এই মাঝরাতে  কিচ্ছু হিসেব মেলাতে পারছেন না।কি মনে করে মশাটাকে মারলেন না। টোকা দিয়ে ফেলে দিলেন। 
এবার তিনি দেখলেন আরেকটা বড়ো মশা ছোট মশাটাকে নিয়ে যাচ্ছে। আর এও শুনতে পাচ্ছেন,"দেখেছিস পিং, লোকটা কতো ভালো,তোকে মারেন নি!"
রহমান সাহেবের মাথা খারাপ হলো কিনা তিনি বুঝতে পারছেন না। মশার ভাষা তিনি বুঝতে পারছেন! এতক্ষণ যে মশাটা যার রক্ত খেলো তার নাম পিং! রহমান সাহেব বিছানা থেকে উঠে এক গ্লাস পানি খেয়ে, আবার ঘুমিয়ে পড়লেন। 
এরপর দিন অফিস করে এসে দেখলেন, তার গায়ে জ্বর জ্বর ভাব। করোনা হলো নাকি আবার? বুকটা ধ্বক করে উঠলো। তাড়াতাড়ি  হসপিটালে উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলো। 
দু'ঘন্টা পর রহমান সাহেবের করোনা টেস্ট নেগেটিভ আসলো৷ কিন্তু ডেঙ্গু টাইপ-বি পজেটিভ হলো।
(২)
পনেরো দিন পর ঢাকার একটা বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলো রহমান সাহেব। ডাক্তার সাহেব যাওয়ার সময় বললেন, 
—আপনি খুব লাকি!
—কেন?
—আপনার রক্তের খুব প্রয়োজন ছিলো। পাওয়া  যাচ্ছিলো না একদম এই পরিস্থিতির মাঝে। অ্যাসিন্টেট বললো ব্লাড ব্যাংকে কোন রক্ত নেই। আপনার অবস্থা খুব খারাপের দিকে চলে যাচ্ছিলো। হঠাৎ নার্স এসে বললো, "স্যার রক্ত ব্লাড ব্যাংকে আছে।" অ্যাসিটেন্ট বললো," অসম্ভব স্যার, আমি মাত্র দেখে আসলাম এই গ্রুপের কোন রক্ত ছিলো না!" কে এসে রক্ত দিয়ে যাবে?যাই হোক কোন রকমে আপনাকে রক্ত দিয়ে বাঁচালাম। 
রহমান সাহেব কোন হিসেব মিলাতে পারছেন না। তাহলে কি ওই মশাগুলোই....! হঠাৎ মনে হলো তিনি পাগল হয়ে গেছেন। কিন্তু পাগল কি কখনো বুঝতে পারে, যে সে পাগল হয়ে গেছে!ভাবতে ভাবতে হঠাৎ তিনি লক্ষ করলেন কয়েকটা মশা তার কানে পিনপিন করছে। মনেমনে বললেন,"এই মশাগুলো পিং আর পিং এর মা নয়তো আবার?"

শেষকথাঃ
এরপর অনেক দিন কেটে গেলো। তিনি আরও নতুন একটা জিনিস আবিষ্কার করলেন,কোন মশা আর এখন তাকে কামড়ায় না! 

 

লেখক♥

হিমেল হাসনাত রাফি৷

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

এই বিভাগের আরও