করোনা মোকাবেলায় বহির্বিশ্বে প্রযুক্তি

৪-৭-২০২০

This image is not found

 

পলাশ দেব রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ 

প্রযুক্তি আমাদের সাথে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িত। বিগত এক  দশকে প্রযুক্তির কল্যাণে জীবনযাত্রা বদলেছে অকল্পনীয় রুপে। তাই প্রতিটি দেশ তাদের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো  উন্নততর করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

হঠাৎ করে করোনাভাইরাস  কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত পুরো বিশ্ব। এই মুহূর্তে পৃথিবীর অনেক দেশই করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রযুক্তিকে ব্যবহার করার উদ্যোগ নিয়েছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের তথ্যমতে বিশ্বে প্রায় ৬.১ মিলিয়ন কাজের ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে সম্পূর্ণভাবে প্রযুক্তি শিল্পের ওপর ভর করে। এর ফলে একদিকে যেমন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রসার ঘটায় সবুজ অর্থনীতি বা গ্রীন ইকোনমি বৃদ্ধি পাচ্ছে অন্যদিকে  ডাটা অ্যানালাইসিস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এর ব্যবহার ব্যবসায়িক ঝুঁকিপূর্ণ অনেক বিষয় নিয়ে পূর্বানুমান সহজ করে দিয়েছে।
ভাইরাসের প্রোটিন বিশ্লেষণে এখন ব্যবহার হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এর ফলে নতুন নতুন ভাইরাসের গঠন ও উপাদান বিশ্লেষণ করে অল্প সময়ের মধ্যেই টিকা আবিষ্কারে অনেকধাপ অগ্রসর হয়ে গেছে ব্রিটেন, চীন, অস্ট্রেলিয়া সহ অনেকগুলো দেশ। 
বিশ্বখ্যাত টেক জায়ান্ট গুগল এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা শাখা ডিপমাইন্ড বছরের জানুয়ারিতে আলফা ফোল্ড নামে এক পদ্ধতি আবিষ্কার করে যা দিয়ে প্রোটিনের জেনেটিক সিকোয়েন্সিং এর মাধ্যমে থ্রিডি  মডেল তৈরি করা হচ্ছে যা ছিল একসময় অত্যন্ত সময় ও শ্রমসাপেক্ষ।
মাইক্রোসফট তাদের বিশেষ সফটওয়্যার Bing app এর মাধ্যমে হু,সিডিসি, সিইডিসি ইত্যাদি কয়েকটি সংস্থার তথ্যকে ব্যবহার করছে করোনা প্রাদুর্ভাবজনিত এলাকা চিহ্নিত করতে।    
‌তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ ব্যবহার করে সেন্ট্রাল এপিডেমিক  কমান্ড সেন্টার তাদের দেশের নাগরিকদের স্বাস্থ্য তথ্য ও ভ্রমণ তথ্যের সমন্বয় করছে। এর ফলে নাগরিকদের চলাচল ও নির্দিষ্ট এলাকায় কি পরিমাণ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে সে ব্যাপারে সঠিক ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হচ্ছে।
সীমিত পরিসরে চীনে Facial Recognition পদ্ধতির মাধ্যমে কেউ মাস্ক পড়েছে কি না তা নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা হচ্ছে। এতে করে আইন মেনে চলার জন্য জনসাধারণকে বাধ্য করা ও ব্যাপক হারে আইনের সঠিক প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে।
 বিশাল জনগোষ্ঠীর দেশ হওয়া সত্ত্বেও করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীন তার নাগরিকদের করোনা পরীক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহারে সাফল্য দেখিয়েছে। এক্ষেত্রে তারা Big Data Analysis ব্যবহারের মাধ্যমে লক্ষণ, ট্রেসিং, করোনা আক্রান্তের সম্ভাবনা, আক্রান্ত এলাকার সংস্পর্শে আসা ইত্যাদি তথ্যকে বিশ্লেষণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্বারা কোন ব্যক্তি ও এলাকার রোগ পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু  তা নির্ধারণ করতে পারছে সহজে। সেই সাথে ভবিষ্যতে কেমন পলিসি নেয়া হবে সে জন্যও প্রযুক্তির সহায়তা নেয়া হচ্ছে।  চীনের প্রযুক্তিভিত্তিক কোম্পানি Baidu তাপমাত্রা পরীক্ষার জন্যে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করছে তা চলাফেরার মুহূর্তে মানুষের তাপমাত্রা পরীক্ষা করতে পারে।
তাই আমাদেরকে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ব্যাপারে অবশ্যই নজর দিতে হবে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে চাহিদা বাড়বে দক্ষ মানুষের। সে জন্য কর্মীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়াটাও জরুরি। বাংলাদেশের মতো মানবসম্পদ নির্ভর দেশে মানুষের বিভিন্ন সেবা পাওয়ার পথ সহজ করতে প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই। আমাদের প্রধান প্রধান খাতগুলো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও পরিচয় সম্পর্কে অবগত নয়। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো ও জনসাধারণের সেবা পাওয়ার পথ  সহজসাধ্য করা এখন সময়ের দাবি।.