করোনা পরিস্থিতি নিয়ে জাবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা

৩-৭-২০২০

This image is not found

 

মোঃহিমেল হাসনাত রাফি, জাবি প্রতিনিধি।

গেলো বছর চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের কারনে নাকাল পুরো বিশ্ব।করোনার হানায় জনজীবনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা পড়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রেও এর প্রভাব লক্ষণীয়। করোনার কারনে দেশের কয়েকটা বড় পাবলিক পরীক্ষা না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে৷ করোনা নামক এই অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে লড়ছে পুরো বিশ্ব।করোনার সংক্রমণ রোধ করতে লকডাউন করা হয়েছে দেশের বিভিন্ন হটস্পট এলাকা। বন্ধ আছে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। 
গেলো মার্চের ১৭ তারিখের পর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেয় সরকার৷ এর মাঝে অনেক প্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চালু হয়ে গেছে৷ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ইঙ্গিত দিয়েছিলো সরকার। 
এই দীর্ঘ বন্ধে বাসায় বসে কি কি করছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবং করোনা পরিস্থিতি নিয়ে তাদের ভাবনা কি চলুন জেনে নেয়া যাক।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯ তম আবর্তনের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মেহদী আহমেদ বলেনঃ
করোনা মহামারী আমাদের জন-জীবনকে স্থবির করে দিয়েছে। চারদিকে শুধু হাহাকার আর হাহাকারের গল্প, প্রিয়জনদের মৃত্যু আর দেশজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দায় আমাদের চারদিকের বাতাস ভারি হয়ে গেছে, এই দুঃসময়েও মনে পরে ক্যাম্পাসের কথা 
 ক্যাম্পাসের সেই দিনগুলিকে খুব মিস করি।  ক্লাসের শেষে বন্ধুরা মিলে ঘুরাঘুরি করা, সবার সাথে রাতের ক্যাম্পাস ঘুরাঘুরি; গণরুমের গান, সবকিছুই খুব মনে পড়ে।
এই সংকীর্ণ  জীবনে আমরাও যেন সংকীর্ণ  না থেকে সবাই নিজ নিজ প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাই আমাদের জীবনের লক্ষ্যে। ঘরে বসেই যতটুকু সম্ভব আমাদের উচিত পরিবারকে সময় দেওয়া,  নিজেদের প্রস্তুত করে গড়ে তুলা করোনাকালীন পরবর্তী জীবনের জন্য,  এখন যেহেতু অনেক সময় আছে  বিভিন্ন সাহিত্য এবং  ধর্মীয় বইপুস্তক  ইত্যাদি পড়ে সময় কাটানো উচিত, যে যেটা জানি সেই অনুযায়ী কাজ করে  নিজেদের আলাদা একটা স্কিল তৈরি করতে পারি , সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি, ঘরে থাকি। ইনশাল্লাহ আমরা করোনা ভাইরাস নামক অদৃশ্য শত্রুকে  জয় করবোই।

একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী লুলু মারজান দ্বীনা বলেনঃ
এভাবে বন্দী জীবন আসলে মানসিক অস্থিরতা তৈরি করছে। আর পড়াশোনা শুরুর আগেই এভাবে থেমে যাওয়াটা আসলে মেনে নেয়ার মতো না। ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত হলেও আমি আশা করছি সব ঠিক হয়ে যাবে। পৃথিবী সুস্থ হচ্ছে আর পৃথিবীবাসিও সুস্থ হবে।

তার আরেক সহপাঠী মালিহা খানম বলেনঃ
ক্যাম্পাস থেকে বাড়ি ফেরার সময় হয়ত কেউই কল্পনা করি নি এতগুলো দিন আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাস, বন্ধুবান্ধবদের না দেখে কাটাতে হবে। এই বন্ধী দশা দিন দিন প্রভাব ফেলছে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যে। শারীরিক সুস্থতার সাথে সাথে মানসিক সুস্থতার দিকেও নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি৷ সবার সুস্থতা কামনা করছি। আশা করি খুব শীঘ্রই আবার ফিরে যেতে পারব আমাদের ভালবাসার ক্যাম্পাসে, আবার আড্ডা হবে চায়ের চুমুকে।

সবশেষে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী সাজিদ হাসান ফারহান বলেনঃ
করোনা মহামারীতে দেশ যখন বিপর্যস্ত, তখন শিক্ষাব্যবস্থাও ঠিক যেন থমকে গেছে। জাবিতে ভর্তি হওয়ার পর ক্লাস শুরু হয় ১০ মার্চ। এর পর এক সপ্তাহ ক্লাস না করতেই করোনার জন্য লকডাউন শুরু হয়। এই লকডাউনে যেন ভুলতে শুরু করেছি যে, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এই পরিস্থিতিতে সাড়ে তিন মাসের মত বাসায় কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর মানসিক অবস্থা ঠিক রাখা খুবই কঠিন। আমাদের সুস্থ থাকার জন্য নিজেদের যেমন সচেতন হতে হবে, পাশাপাশি অন্যদেরকেও সচেতনতা অবলম্বনের জন্য বলতে হবে। যেখানে আমরা সব দিক থেকে পিছিয়ে যাচ্ছি, সেখানে সবকিছুই এখন অনলাইনভিত্তিক হয়ে গেছে। গত এক দশকেও আমরা যা করিনি, তাই এখন করোনা মহামারীতে আমরা বাসায় থেকে করছি, অনলাইনে করছি। করোনা মহামারী কেটে গেলে পরবর্তী সময়ে নিজেদের উপকারে আসবে, এমন কিছুই আমাদের ঘরে বসে করা উচিত। মানসিক সুস্থতার দিকে খেয়াল  রেখে, ভালো চিন্তা-ভাবনাকে সাথে নিয়ে, ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে সাধ্যমত নিজেকে দক্ষতাসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে হবে। আর অবশ্যই আপনজনদের খেয়াল রাখতে হবে, সামর্থ্য থাকলে অসহায়দের সাহায্য করতে হবে।আশা করি, খুব শীঘ্রই অন্ধকার কেটে গিয়ে নতুন সূর্যের দেখা মিলবে।

এই বিভাগের আরও