শুভ জন্মদিন আহমদ ছফাঃ বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর

৩০-৬-২০২০

This image is not found

 

মোঃহিমেল হাসনাত রাফি, জাবি প্রতিনিধি। 

একজন বুদ্ধিজীবীকে যদি সংজ্ঞায়িত করা হয়, তবে আহমদ ছফা হলেন তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। বরেণ্য সাহিত্যিক আহমদ ছফা একাধারে ছিলেন লেখক, ঔপন্যাসিক, কবি, চিন্তাবিদ, একজন গণবুদ্ধিজীবী।১৯৪৩ সালের আজকের এই দিনে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামে আহমদ ছফা জন্মগ্রহণ করেন। অনেকের মতে,মীর মশাররফ হোসেন ও কাজী নজরুল ইসলামের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঙালি মুসলমান লেখক হলেন আহমদ ছফা। তাঁর লেখায় ছিলো প্রথাবিরোধীতা, স্পষ্টবাদিতা,স্বকীয় সৃজনশীলতা,বুদ্ধিবৃত্তির অনন্য এক বিন্যাস৷ 
ছোটকাল থেকেই তিনি রাজনীতির সাথে পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন।তাঁর লিখায় কোনো পক্ষপাতিত্ব ছিলো না। সত্যকে প্রকাশ করতে কুণ্ঠাবোধ করেননি কখনো৷ অন্যায়,অবিচার,কুসংস্কার ও অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে তার কলম ছিলো সদা সোচ্চার। ব্যক্তিজীবনে তিনি অত্যন্ত রাগী ছিলেন, কাউকে কখনও আপোষ করেন নি। সবসময় গণমানুষের জন্য লিখেছেন৷ তাঁর লেখায় বাংলাদেশের জাতিসত্তার পরিচয় প্রাধান্য পেয়েছে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি হলো— বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস, বাঙালি মুসলমানদের মন,ওঙ্কার, অলাকচক্র, গাভী বিত্তান্ত, অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,যদ্যপি আমার গুরু, ফাউস্ট ইত্যাদি। 
তাঁর রচিত 'গাভী বিত্তান্ত' তৎকালীন ঢাবি শিক্ষক রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে রচিত। এই রচনাটাকে অনেকে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গাত্মক উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করেন। 
ছফার রচিত প্রত্যেকটি উপন্যাসেই ছিলো ভাষার সৌকর্য ও অনন্য রচনাশৈলী।তাঁর রচিত 'ওঙ্কার' বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের বহিঃপ্রকাশ।এছাড়াও তাঁর রচিত 'বাঙালি মুসলমানের মন' প্রবন্ধ সংকলনটিকে বাংলা ভাষায় রচিত গত শতাব্দীর 'সেরা দশ চিন্তার বইয়ের' একটি বলে অভিহিত করা হয়। 
প্রখ্যাত বাংলাদেশী ভাস্কর শামীম শিকদার ও সুরাইয়া খানমের সাথে ছফার প্রণয় সম্পর্ক ছিলো।এদের সাথে সম্পর্কের ভিত্তিতে তিনি 'অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী' আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসটি রচনা করেছেন৷ এছাড়াও তিনি 'ফাউস্ট' নামক একটি জার্মান সাহিত্য অনুবাদ করেন।অর্থাৎ সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় তিনি পদার্পণ করেছেন। 
হুমায়ুন আহমেদ, ফরহাদ মজহার, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, তারেক মাসুদ,সলিমুল্লাহ খান,রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, চিত্রশিল্পী এস.এম. সুলতানসহ প্রমুখ বুদ্ধিজীবীদের তিনিই অনুপ্রাণিত করেছেন। 
জীবদ্দশায় ছফার প্রথাবিরোধী লিখা অনেকের অস্বস্তির কারন ছিলো।অনেকে তাঁকে বিদ্রোহী, বোহেমিয়ান, উদ্ধত,বিতর্কপ্রবণ বলে অভিহিত করেন। 
তিনি অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।তাঁর উল্লেখযোগ্য পুরস্কারগুলো হলো— 
লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৫),বাংলা একাডেমির সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার (১৯৯৩) (যেটি তিনি পরবর্তীতে প্রত্যাখান করেছিলেন)।২০০২ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সাহিত্যে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করেন৷ 
তিনি ২০০১ সালের ২৮শে জুলাই অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন৷ পতন হয় একটি নক্ষত্রের। বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর, গণমানুষের লেখকের আজ ৭৭তম জন্মদিন। জন্মদিনে তাঁকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। তিনি বাংলা সাহিত্যের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন আজীবন।

এই বিভাগের আরও